হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা । হাঁসের ডিম খেলে কি হয়।

পুষ্টিকর খাবার সমূহের মধ্যে ডিম আমাদের খুবই পরিচিত একটি খাবার। ডিমের মধ্যে প্রায় সকল ধরনের পুষ্টিগুণ উপস্থিত থাকে তাই অনেক সময় ডিমকে পুষ্টি উপাদানের শক্তি  ঘর বলা হয়ে থাকে। মুরগির ডিমের তুলনায় হাঁসের ডিমের খোসা শক্ত ও মোটা হওয়ার কারণে হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের মতো দ্রুত পচে যায় না।

এই কথাটি সত্য যে পৃথিবীর যেকোন খাবারাই হোক না কেন সেটি যতই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হোক না কেন।

প্রতিটি খাবারের উপকারিতার পাশাপাশি এর অপকারিতা থাকবেই। আর তাই হাঁসের ডিম সহ এর ব্যতিক্রম নয়।

হাঁসের ডিমের উপকারিতা
হাঁসের ডিমের উপকারিতা

নিচে হাঁসের ডিমের উপকারিতা সমূহ উল্লেখ করা হলো:

  • হাঁসের ডিমের মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ হলো ১৮১ কিলোক্যালরি।
  • এই হাঁসের ডিমের মধ্যে প্রোটিন থাকে ১৩.৫ গ্রাম।
  • হাঁসের ডিমের মধ্যে ফ্যাট থাকে ১৩.৭ গ্রাম। 
  • হাঁসের ডিমের মধ্যে ক্যালসিয়াম থাকে ৭০ মিলি গ্রাম।
  • এই হাঁসের ডিমের মধ্যে ভিটামিন এ থাকে ২৬৯ মাইক্রোগ্রাম।
  • হাঁসের ডিম দেহের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ শক্তির যোগান দিয়ে থাকে।
  • হাঁসের ডিমের মধ্যে থাকা ভিটামিন বি আমাদের গ্রহণযোগ্য খাদ্যকে এনার্জিতে পরিণত করতে সাহায্য করে।
  • এই হাঁসের ডিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়।
  • হাঁসের ডিমের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়কে মজবুত করে।
  • হাঁসের ডিমের উপাদান সমূহ  হৃদপিন্ডের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা প্রদান করে।
  • এই হাঁসের ডিমের মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন এ আমাদের চোখ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হাঁসের ডিমের।

উপরে যেসব হাঁসের ডিমের উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে এছাড়াও হাঁসের ডিমের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের দেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাঁসের ডিম আমাদের শরীরের অনেক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে থাকে।

দৈনিক বিভিন্ন কাজকর্ম করার জন্য আমাদের প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণ শক্তির। ডিম থেকে আমরা প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি ও শক্তি পেয়ে থাকি। আপনি যদি সকালে একটি হাঁসের ডিম খান তাহলে এই হাঁসের ডিম আপনাকে সারাদিন কাজকর্ম করার শক্তি প্রদান করবে। 

হাঁসের ডিমের অপকারিতা

হাঁসের ডিম হলো একটি পুষ্টিকর খাবার। আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি। যার মধ্যে কিছু পুষ্টি গুনাগুন আমরা হাঁসের ডিমের মাধ্যমে পেতে পারি। হাঁসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা অনেক। হাঁসের ডিম আমাদেরকে অনেকভাবে উপকৃত করে থাকে। 

এখন আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমরা তো এ কথা জানি যে, সকল জিনিসের ভালো দিক ও খারাপ দিক দুটোই রয়েছে। আর তাই  হাঁসের ডিমও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। হ্যাঁ আমি বলতেছি যে আপনার প্রশ্নটি একদমই সঠিক।

কিন্তু এ কথাটি সত্যি যে হাঁসের ডিমের অপকারী দিকের চেয়ে উপকারী দিকের পরিমাণ বেশি।

যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা রয়েছে কিংবা হার্টের ব্লক রয়েছে তাদের হাঁসের ডিম কম খাওয়া উচিত বা খাওয়া উচিত নয়।

কারণ হাঁসের ডিম খেলে আপনার এই সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের তো আর হার্টের সমস্যা নেই। যে এই অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবারটি সকলে খেতে পারবে না। তাই এই সমস্যাটি শুধু তাদের জন্য তাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে।

অনেকে ধারণা আবার এই যে হাঁসের ডিম খেলে এলার্জি হয়। কিন্তু আমি বলব যে এটি আপনার ভুল ধারণা।

এলার্জি বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আমি মানছি যে হাঁসের ডিম খেলেও কারো এলার্জি হতে পারে।

কিন্তু তার যে শুধু হাঁসের ডিম খেলে এলার্জি হবে তা না। তার যে কোন প্রকারের ডিম খেলে এলার্জি হবে। যেকোনো প্রাণীর ডিম খেলে এলার্জি হবে। এলার্জি তখন হয় যখন শরীর কোন একটি খাবারকে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

এমন কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো কারো কারো শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর আবার কারো কারো শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

আর এই ডিমও কারো শরীরের জন্য অপকারী হতে পারে, ডিম যদি কারো শরীরের জন্য অপকারী হয় তাহলে তার এলার্জি হবে।

হাঁসের ডিম খেলে কি হয়

হাঁসের ডিমে থাকে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ যেগুলো আমি উপরের হাঁসের ডিমের উপকারিতায় উল্লেখ করেছি। এই পুষ্টিগুণ সমূহ আমাদের দেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং খুবই জরুরী। আমাদের শরীরকে সুস্থ রোগমুক্ত এবং কর্মক্ষম রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাঁসের ডিমের মধ্যে থাকা ক্যারোটিনয়েড এবং ল্যুটেন বৃদ্ধ বয়সে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। 

আবার মেয়েদের পিরিয়ডের সময় হাঁসের ডিম খাওয়া খুবই ভালো এবং খুবই উপকারী। কারণ এই সময়ে বেশি পরিমাণ রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে মেয়েদের অ্যানিমিয়া নামক রোগ হয়। আরে ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন অ্যানিমিয়া রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

আমাদের দেহের মধ্যে দুই ধরনের কোলেস্টরল থাকে একটি হলো ভালো কোলেস্টরল অন্যটি হলো খারাপ কোলেস্টরল।

হাঁসের ডিম খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায় এবং ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে বা বজায় রাখে।

আমাদের দেহের সার্বিক সুস্থতার জন্য কোলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, শরীরের মধ্যে কোলাইনের ঘাটতি হলে লিভারের সমস্যা দেখা দেয়।

আর ডিমের মধ্যে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম কোলাইন থাকে। আর তাই ডিম লিভার যকৃত এবং স্নায়ুর জন্য খুবই উপকারী।

আরও পড়ুন: শকুন কত বছর বাঁচে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!