সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে? সামাজিক পরিবর্তনের কারণ ও বৈশিষ্ট্য সমূহ

সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে: সামাজিক কাঠামোর গঠন ও কাজ আগের অবস্থা থেকে নতুন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়াকে সামাজিক পরিবর্তন বলে। সমাজের সব কিছু কখনোই সর্বদা স্থিত থাকে না সমাজ পরিবর্তনশীল আর এই পরিবর্তন হয় বিভিন্ন দিক থেকে।

এই সমাজে পরিবর্তন কাকে বলে এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে অনেক বিজ্ঞানী অনেক উত্তর দিয়েছেন বা সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। এখানে আমি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সংজ্ঞা এবং কয়েকটি বিজ্ঞানের নাম উল্লেখ করলাম যাদের সংজ্ঞা সমূহ বেশি গ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত।

বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস বেকন এর দেওয়া সংজ্ঞাটি হলো: সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে একটি ধারাবাহিক প্রগতি যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। অনেক বিজ্ঞানীরা আবার এই পরিবর্তনকে মানুষের আচরণগত প্রণালীর পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকেন।

হার্বাট স্পেনসার এর সংজ্ঞাটি হলো: সামাজিক পরিবর্তন হলো একটি সহজ সরল সংগঠন থেকে একটি জটিল কাঠামোয় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া।

অর্থাৎ তিনার মতে এই কাঠামো সহজ থেকে ধীরে ধীরে কঠিনের দিকে অগ্রসর হয় এবং ভালোর দিকে অগ্রসর হয়।

সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে
সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে

বিজ্ঞানী পেজ এবং বিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের দেওয়া সংজ্ঞাটি হলো: সমাজিক কাঠামোগত পরিবর্তন হওয়া হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন। আবার বিজ্ঞানী হেনরি এর দেওয়া সংখ্যাটি হলো: সামাজিক পরিবর্তনের অর্থ হচ্ছে সমাজের গঠন কাঠামোর পরিবর্তন। 

সামাজিক পরিবর্তনের কারণ

নিচে সামাজিক পরিবর্তনের কারণ দেওয়া হলো:

১} ভৌগলিক কারণ।

২} সাংস্কৃতিক কারণ।

৩} জৈবিক কারণ।

৪} প্রযুক্তিগত কারণ।

৫} শিক্ষাগত কারণ।

৬} ধর্মীয় কারণ।

৭} রাজনৈতিক কারণ।

৮} অর্থনৈতিক কারণ।

৯} মনস্তাত্ত্বিক কারণ।

১০} আধুনিকীকরণ।

ভৌগলিক কারণ: ভৌগোলিক কারণকে প্রাকৃতিক কারণও বলা হয় প্রাকৃতিক বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে সামাজিক পরিবর্তন হয়। বন্যা, ভূমিকম্প, খরা, ভূমিধস প্রভৃতি কারণে প্রাকৃতিক কাঠামোর পরিবর্তন হয় ফলে সামাজিক পরিবর্তন হয়।

জৈবিক কারণ: জৈবিক কারণসমূহ জনসংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং জনসংখ্যার পরিবর্তনের ফলে সামাজিক পরিবর্তন হয়।

উদাহরণস্বরূপ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কৃষি জমির সংখ্যা হ্রাস পায় এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়ে থাকে।

সাংস্কৃতিক কারণ: সংস্কৃতি হচ্ছে সামাজিক মানুষের নিজস্ব সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। মানুষের ভাবনা-চিন্তা, নিয়ম, মূল্যবোধ, ব্যবহার, কাজকর্ম প্রভৃতি বিষয়ে সামাজিক পরিবর্তন করে থাকে।

প্রযুক্তিগত কারণ: সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এবং এর মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন বেশি হয়।

প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে এবং প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমান মানুষ এক মুহূর্ত বাঁচতে পারবে না।

শিক্ষাগত কারণ: শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষিত সমাজ পারে সঠিক সামাজিক পরিবর্তন করতে। শিক্ষা সমাজের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার দূর করে এবং সমাজকে আধুনিক সমাজ গড়ে তোলে যে সমাজ যত শিক্ষিত সে সমাজ তত উন্নত।

ধর্মীয় কারণ: ধর্মীয় কারণে সামাজিক পরিবর্তন বেশি পরিলক্ষিত হয় এবং প্রতিটি সমাজ বিভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ, রীতিনীতি, নিয়ম-কানুন, অনুসরণ করে।

আর ধর্ম ও ধর্মের রীতিনীতি এবং নিয়ম কানুনের কারণে সামাজিক পরিবর্তন হয়ে থাকে।

রাজনৈতিক কারণ: রাষ্ট্র পরিচালক কারীদের দ্বারা বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে সামাজিক পরিবর্তন হয়।

অর্থনৈতিক কারণ: অর্থনীতি ছাড়া ব্যক্তি বা সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয় যে সমাজ অর্থনীতিতে যত মজবুত সে সমাজ তত উন্নত।

মনস্তাত্ত্বিক কারণ: মানুষের চিন্তা, ভাবনা, জ্ঞান, বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা, চাহিদার কারণে সামাজিক পরিবর্তন ঘটে। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভালো চিন্তা ভাবনার কারণে সমাজ উন্নত হয়েছিল।

আধুনিকীকরণ: বর্তমান সমাজ দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং আধুনিক হচ্ছে আর এই আধুনিকরণ হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তনের কারণে।

সামাজিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য

আশা করি আমার এই পোস্টে পড়ার মাধ্যমে আপনি এতক্ষণ বুঝতে পেরেছেন সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে?  আর সেই সাথে এ বিষয়টি সম্পর্কে সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা আমি এখানে করতেছি।

সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের মূল বিষয় আর এ পরিবর্তনের সমাজের বিভিন্ন দিকের পরিবর্তনকে সূচিত করে। সামাজিক পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট সমাজের মাঝে সীমাবদ্ধ নয় এটি প্রতিটি সমাজের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।

১) সামাজিক পরিবর্তন হলো সার্বজনীন বিষয়।

২) সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে একটি আবশ্যিক প্রক্রিয়া।

৩) সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে একটি গতিশীল এবং নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।

৪) সামাজিক পরিবর্তন হয় সাময়িক।

৫) সামাজিক পরিবর্তন হয় সামাজিক প্রকৃতির।

৬) সামাজিক পরিবর্তন হয়ে পরিকল্পনাযুক্ত বা পরিকল্পনা বিহীন।

৭) সামাজিক পরিবর্তন কখনো দ্রুতগত দিতে হয় আবার কখনো ধীরগতিতে হয়।

৮) সামাজিক পরিবর্তন পরিমাণগত এবং গুণগত প্রকৃতির হয়।

এখানে এগুলো ছিল সামাজিক পরিবর্তনের কিছু বৈশিষ্ট্য সমূহ যেগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে বা তুলে ধরা হয়েছে। আর এই সকল বৈশিষ্ট্যের কারণেই একটি সমাজ বা সমাজ পরিবর্তন হয়ে থাকে বা পরিবর্তন হয়।

আপনি যদি এগুলো ব্যাখ্যা করে লিখতে চান তাহলে আপনি আপনার মত করে সুন্দর করে ব্যাখ্যা করে লিখবেন। এমন ভাবে লিখবেন যাতে আপনিও ব্যাখ্যাটি বুঝতে পারেন এবং অন্য যে পড়বে সেও ব্যাখ্যাটি বুঝতে পারে।

আরও পড়ুন: সার্চ ইঞ্জিন কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *