সমবায় সমিতি কি? সমবায় সমিতির সুবিধা ও অসুবিধা 

সমবায় সমিতি কি: সমবায় সমিতি হচ্ছে এমন এক ধরনের সংগঠন যেখানে সমতার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়। এই সমবায় কথাটির অর্থ হচ্ছে একসঙ্গে বা একসাথে বা একই বিষয়বস্তু বুঝাতে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সাধারণ অর্থে আমরা যদি এটি ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে বলতে যাই তাহলে সমবায় সমিতির সংজ্ঞা হবে বা এই প্রশ্নের উত্তর হবে। সমাজের মধ্যে উপস্থিতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন নিজেদের কল্যাণের জন্য একত্রিত হয় ব্যবসা সংগঠন করে দলে।

আর তাদের সকলের চেষ্টায় এবং অর্থের বিনিময়ে গড়ে তোলা এই ব্যবসা সংগঠন বা যাই বলি আমরা, হচ্ছে সমবায় সমিতি৷

সমবায় সমিতি কি
সমবায় সমিতি কি?

এই ক্ষেত্রে একই স্তরের মানুষ বেশি করে এই কাজের মধ্যে অংশগ্রহণ করে থাকে এবং কাজটি হাসিল করার চেষ্টা করে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এই সমবায় সমিতি কি এর একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যে সংখ্যাটি আবার অনেক গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাটি হলো: সাধারণভাবে নিম্নবিত্ত বা মধ্যম আয়ের কতিপয় ব্যক্তির সংঘ যেখানে তারা সাধারণ অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের নিমিত্তে তাদের নিজের ইচ্ছায় সম্মিলিত হয়।

আর গণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবসা সংগঠন গড়ে তোলে যাতে তারা সমহারে প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করে এবং যার ঝুঁকি ও সুফল নিজেদের মধ্যে ন্যায্যভাবে বন্টন করে। আর তাদের মাঝে যাতে একত্ববাদ থাকে এবং তারা যেন তাদের এই সংগঠনকে উপরে ওঠার অর্থ উন্নতি করা যথাসাধ্য চেষ্টা করতে থাকে।

সমবায় সমিতির সুবিধা 

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা জানলাম যে সমবায় সমিতি কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত এবং সমবায় সমিতির সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। এখন আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো যে সময় সমিতির সুবিধা কি কি সুবিধা আমরা এখান থেকে পেতে পারি।

তাহলে দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক সমবায় সমিতি কি কি সুবিধা আমাদেরকে দিতে পারবে বা কি কি সুবিধা দিবে।

নিচে আমি খুব সুন্দরভাবে এবং সহজ করে সমবায় সমিতির সুবিধাসমূহ উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।

  • সমবায় সমিতিতে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে একে অপরের সাথে ঐক্য সৃষ্টি হয়।
  • এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আত্ম সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং অপরের জন্য আত্ম সচেতনতা  কাজ করে।
  • নিজেদের মধ্যে কর্মসৃহা সৃষ্টি হয় এবং নতুন ভাবে কাজ করার ধারণা অর্জিত হয়।
  • মনের মধ্যে আশাবাদ জাগ্রত হয় এবং কিভাবে আমাদের সমিতিকে আরো উপরের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে চিন্তা আসে।
  • আর ধীরে ধীরে সকলে মিলে কাজ করার মাধ্যমে এবং সকলের প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৃহৎ আয়তন প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়।
  • এর মাধ্যমে সমবায়ের মধ্যে উপস্থিত প্রত্যেকের দক্ষতার উন্নয়ন হয় এবং প্রত্যেকে প্রতিটি কাজ করতে পারে।
  • এর মাধ্যমে নৈতিকতা শিক্ষা অর্জন করা যায় যে কিভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে হবে কিভাবে একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকতে হবে।
  • আর এভাবে সঞ্চয়ের আভাস সৃষ্টি হয় অর্থাৎ সঞ্চয় করার ইচ্ছা মনের ভেতর জাগ্রত হয়।
  • সঞ্চয়ের মাধ্যমে মূলধন ব্যবসার মূলধন বৃদ্ধি করার চিন্তা মাথায় আসে এবং ব্যবসার মূলধন বৃদ্ধি পায়। 
  • এর মাধ্যমে প্রত্যেকের সঞ্চয়ের সমতা হ্রাস পায়।
  • আর বেকার সমস্যায় এর মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে সমাধান হবে। 

শুধুমাত্র এগুলো ছাড়াও এই সমবায় সমিতির অনেক এবং বহু বহু সুবিধা রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এই সকল সুবিধা অর্জন করার জন্য এবং সুবিধাভ করার জন্য অবশ্যই আমাদের সমবায় সমিতিতে যাওয়া উচিত।

সমবায় সমিতির অসুবিধা সমূহ

এখন আমরা আলোচনা করব যে সমবায় সমিতির অসুবিধা কি কি রয়েছে এবং ব্যাখ্যা করব এই সমবায় সমিতির অসুবিধা নিয়ে। নিচে আমি সমবায় সমিতির অসুবিধা সমূহ আব তুলে ধরা এবং আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

  • সমবায় সমিতি গঠন করা অর্থাৎ সকলের ঐক্য বা জোট ফিরিয়ে আনা একটি কঠিন কাজ।
  • আর এই কাজটি করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি বড় সমস্যা তা হচ্ছে মূলধনের সমস্যা।
  • এখানে সততার অভাব দেখা দেয় অর্থাৎ সমিতির ১০জন ব্যক্তি যদি সৎ হয় তাহলে দুই তিনজন অসৎ ব্যক্তি থাকে।
  • উৎসাহের অভাব থাকে অর্থাৎ একজন ব্যক্তিকে একটি কাজ করতে দিলে সে বলে এটি কঠিন অন্যের দ্বারাই করাও।
  • সহযোগিতার অভাব থাকে একে অপরের প্রতি হিংসা করে যে সে এই কাজটি করুক সহযোগিতা করে না।
  • সমবায় সমিতিতে অংশগ্রহণকৃত লোকজনের বেশিরভাগই অদক্ষ হয়ে থাকে।
  • সমবায় সমিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ কার্যক্ষেত্র দেখা যায় অর্থাৎ যাকে যে কাজটি বলা হবে সেটি করবে এর পাশাপাশি কিছু করবে না।
  • সমিতির মধ্যে মুনাফার অনিশ্চয়তা দেখা যায় এর কারণ হচ্ছে অনেক ব্যক্তি এমন আছে যারা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করে।
  • এই সমিতির মধ্যে অবশিষ্ট লোকদের সমিতির নিয়মকানুন মানার একটি অনিহা বা ওনা গ্রহতা দেখা যায়।

এগুলো ছিল সমবায় সমিতির অসুবিধা যা আমি উল্লেখ করলাম কিন্তু সমবায় সমিতির পর থেকে ঠিক থাকলে এই অসুবিধা গুলো হবে না। আর সমবায় সমিতিতে উপস্থিত ব্যক্তি যদি ঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে সকল সুবিধা দূর করা সহজেই সম্ভব হবে।

আশা করি আপনি আমাদের লেখা পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়েছেন এবং সম্পূর্ণভাবে পড়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আর এই বিষয়ের মত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আমাদের আরো পোস্ট আছে আপনি চাইলে সেগুলো পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন: বিপণন কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *