যৌগিক পদার্থ কাকে বলে? যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

যৌগিক পদার্থ কাকে বলে: যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক মৌলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সম্ভাব হয়, তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে। অর্থাৎ মোট কথা বলতে গেলে যৌগিক পদার্থ কখনো একটিমাত্র মৌল দ্বারা গঠিত হয় না বরং একাধিক মৌল দ্বারা গঠিত হয়ে থাকে।

রাসায়নিকভাবে যদি আমরা কখনো যৌগিক পদার্থকে ভাঙ্গে তাহলে আমরা লক্ষ্য করতে পারবো কয়েকটি ভিন্নরকম মৌলের উপস্থিতি। আর যখন আমরা একটি পদার্থকে ভেঙ্গে রাসায়নিকভাবে ভিন্ন রকম কয়েকটি মৌলের উপস্থিতি লক্ষ্য করতে পারব তখন সেই পদার্থটি হবে যৌগিক পদার্থ।

আমরা সবচেয়ে বেশি যৌগিক পদার্থ ব্যবহার করে থাকি কেননা মৌলিক পদার্থ দ্বারা কোন বস্তু নির্মাণ করা সহজ কোনো বিষয় নয়।

যৌগিক পদার্থ কাকে বলে
যৌগিক পদার্থ কাকে বলে?

যেমন আমরা সোনার অলংকারের দিকে চিন্তা করলে দেখতে পারবো যে সোনার অলংকার শুধুমাত্র সোনা দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। কেননা অলংকার তৈরি করতে আমাদেরকে অলংকারের উপর বিভিন্ন ধরনের সুন্দর সুন্দর ডিজাইন ফুটিয়ে তুলতে হয় সৌন্দর্যের জন্য।

আর এই সৌন্দর্য অলংকার এর মধ্যে ফুটে তোলার জন্য আমাদেরকে সোনার মধ্যে ভেজাল যুক্ত করে ডিজাইন ফুটিয়ে তুলি। অর্থাৎ আমরা সর্বক্ষেত্রে বেশিরভাগ যে সকল পদার্থ ব্যবহার করে তার প্রত্যেকটি যৌগিক পদার্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে এবং সামান্য কিছু পদার্থ আমরা মৌলিক ব্যবহার করি।

আপনারা যদি মৌলিক পদার্থ সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই মৌলিক পদার্থ সম্পর্কে আমাদের পোস্ট রয়েছে আপনারা দেখে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য

আমরা তো নাম বললে অনেকগুলো যৌগিক পদার্থের নাম বলতে পারব কিন্তু যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য বলতে সহজে পারব না। এর মূল কারণ হলো আমরা অনেকেই যৌগিক পদার্থের সংজ্ঞা নিজের ইচ্ছামত বলতে পারলেও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে এটি সম্ভব নয়।

কিন্তু আপনার এই অসম্ভব জিনিসটিকে সম্ভব করার জন্য আমরা এখানে যৌগিক পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট্য আপনার জন্য প্রদান করব।

নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য সমূহ বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হলো:

  • যৌগিক পদার্থ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি যৌগ আবিষ্কার হয়, যা আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি।
  • যৌগিক পদার্থ সর্বনিম্ন দুইটি মৌলিক পদার্থ দ্বারা সৃষ্টি হয় এবং রাসায়নিক বন্ধন বেশ জটিল হয়।
  • যৌগিক পদার্থের উপস্থিত মৌলসমূহের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এদেরকে অনুপাতে বিভক্ত করা হয়।
  • যৌগিক পদার্থ সমূহ ভাঙলে মৌলিক পদার্থ গুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।
  • প্রায় সকল প্রকার যৌগিক পদার্থ মানুষ কৃত্রিম উপায়ে ল্যাব্রটাইতে ও বাসায় তৈরি করতে পারে।

এগুলো হলো যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য এবং এই বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকটি যৌগিক পদার্থের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় যে উপস্থিত রয়েছে।

চলুন তাহলে এবার কিছু উদাহরণ জেনে নেই যেগুলোর দ্বারা আমরা বুঝতে পারবো যে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো যৌগিক পদার্থের বিদ্যমান রয়েছে কিনা।

যৌগিক পদার্থের উদাহরণ সমূহ

যেহেতু রসায়নের আলোকে কথা বলতেছি তাই আমি চেষ্টা করব রসানের কিছু যৌগিক পদার্থের উদাহরণ দেওয়ার এখানে। আর আমি আশা করি আপনারা এই উদাহরণগুলো সম্পর্কে জানার জন্য পুরো পোস্টটির সম্পূর্ণরূপে শেষ করে যৌগিক পদার্থের উদাহরণের জ্ঞান অর্জন করবেন।

নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু যৌগিক পদার্থের উদাহরণ আপনাদের জন্য উল্লেখ করা হলো:

  • পানি, পেট্রোল, কেরোসিন, ডিজেল, অকটেন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস।
  • মিথেন, ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, বিউটাইল, অ্যালকোহল এবং বিভিন্ন প্রকার এসিড।
  • অ্যালকিন, অ্যালকাইন, অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড এবং সায়া নাইটি।
  • প্লাস্টিক, প্রলেপ যুক্ত ধাতব অক্সাইড, বিভিন্ন প্রকার মৌলের একত্রে জলীয় দ্রবণ।

এগুলো হলো যৌগিক পদার্থের কিছু উদাহরণ এবং এর উদাহরণগুলো যৌগিক পদার্থ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অনেক বেশি বিকাশিত করে।

ধন্যবাদ, যৌগিক পদার্থ কাকে বলে এই বিষয়ের উপর তৈরি করা আজকের পোস্টে শেষ পর্যন্ত আপনার উপস্থিতি লক্ষ্য করার জন্য।

আরও পড়ুন: মৌলিক পদার্থ কাকে বলে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top