যাকাতের খাত কয়টি ও কি কি

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আজকের এই পোস্টে আমরা জানবো যে যাকাতের খাত কয়টি এবং সে যাকাতের খাত সমূহ কি কি  ব্যাখ্যা এবং আমরা এগুলো ব্যাখ্যা সহ ভালোভাবে জানব।

 আমি এখানে চেষ্টা করব এগুলোর সঠিক হাদিস সহ ব্যাখ্যা করার জন্য কিন্তু এই যাকাতের বিষয়টি নিয়ে আপনি একজন আলেমের সঙ্গে ভালোভাবে পরামর্শ করে নিবেন। কেননা একজন আলেম ভালোভাবে এই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এবং এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে ভালো ধারণা প্রদান করতে পারবেন।

যাকাতের খাত কয়টি ও কি কি
যাকাতের খাত কয়টি ও কি কি

যাকাতের খাত হচ্ছে আটটি:

১} ফকির।

২} মিসকিন।

৩}  যাকাত আদায়কারী ও যাকাতের হেফাজতকারী।

৪} দাস মুক্তির জন্য।

৫} ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কোন অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া।

৬} ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।

৭}  আল্লাহর রাস্তায়।

৮} মুসাফির।

আর এই সম্পর্কে অর্থাৎ যাকাত প্রদানের খাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফের মধ্যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন:

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْعَامِلِيْنَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَفِيْ الرِّقَابِ وَالْغَارِمِيْنَ وَفِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيْلِ فَرِيْضَةً مِّنَ اللهِ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ যার অর্থ হচ্ছে, নিশ্চয়ই সদকা { যাকাত } হচ্ছে ফকির এবং মিসকিনদের জন্য ও এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাস আজাদ করার জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য,

আল্লাহর রাস্তায় ও মুসাফিরদের জন্য এটি  পবিত্র আল-কুরআন শরীফ এর সূরা তওবা এর ৯/৬০ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।

ফকির ব্যক্তি

ফকিরকে যাকাত প্রদান করার কথাটি মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম বলেছেন আর ফকির হচ্ছে নিঃসম্বল ভিক্ষা প্রার্থী ব্যক্তি।

আর আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিনিয়ত দারিদ্রতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ যার অর্থ হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট দারিদ্র ও কুফুরি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

আর  ফকিরেরা হচ্ছেন যাকাতের মাল পাওয়ার বা যাকাত পাওয়ার হকদার তাই তাদেরকে যাকাত দিতে হবে।

 মহান আল্লাহ সুরা বাকারার ২৭১ নাম্বার আয়াতে বলেছেন,إِنْ تُبْدُوْا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوْهَا وَتُؤْتُوْهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ-

যার অর্থ হচ্ছে যদি তোমরা  প্রকাশ্যে সদকা বা যাকাত আদায় কর তবে এটি ভালো,

আর যদি এটি গোপনে করো ও দরিদ্রদের দাও এটি তোমাদের জন্য আরো ভালো।

যাকাত সম্পর্কে প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِيْ أَمْوَالِهِمْ، تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ

যার অর্থ হলো আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর তাদের সম্পদে যাকাত ফরজ করেছেন যেটা তাদের ধনীদের কাছ থেকে গৃহীত হবে আর তাদের দরিদ্রদের মাঝে বন্টন হবে।

মিসকিনদের মাঝে যাকাত

আটটি যাকাতের খাতের মধ্যে দ্বিতীয় খাতে মহান আল্লাহ তা’আলা মিসকীনদেরকে যাকাত দিতে বলছেন তাই তাদের যাকাত দিতে হবে।

মিসকিন হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে তার নিজের প্রয়োজন মিটাতেও পারেনা আবার মুখ ফুটে কারো কাছ থেকে চাইতেও পারে না।

একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে যে, عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رضى الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ الْمِسْكِيْنُ الَّذِى يَطُوْفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، وَلَكِنِ الْمِسْكِيْنُ الَّذِى لاَ يَجِدُ غِنًى يُغْنِيْهِ، وَلاَ يُفْطَنُ بِهِ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ، وَلاَ يَقُوْمُ فَيَسْأَلُ النَّاسَ-

এই হাদিসটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন ব্যক্তি মিসকিন নয় যে এক মুঠো দুই মুঠো খাদ্যের জন্য অথবা দুটি একটি খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় এবং তাকে সেটা দেওয়া হলে সে ফিরে আসে। বরং প্রকৃত মিসকিন হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার প্রয়োজন পূরণ করার মতো যথেষ্ট সঙ্গতি নেই অথচ তাকে চেনাও যায় না যাতে লোক তাকে সদকা করতে পারে ও সে নিজেও মানুষের নিকট কিছুই চায় না।

যাকাত আদায়কারী ও যাকাতের হেফাজতকারী

যাকাতের খাতের মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালা এমন ব্যক্তিকেও যাকাত দিতে বলেছেন যে যাকাত আদায় করে ও যাকাতের হেফাজত করে এবং যাকাতকে বন্টন করে। আর সে ব্যক্তি যদি সম্পদশালী হয় তবুও সে চাইলে যাকাতের অংশ থেকে কিছুটা গ্রহণ করতে পারে। 

একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে যে, عَنِ ابْنِ السَّاعِدِىِّ الْمَالِكِىِّ أَنَّهُ قَالَ اسْتَعْمَلَنِيْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْهَا وَأَدَّيْتُهَا إِلَيْهِ أَمَرَ لِيْ بِعُمَالَةٍ فَقُلْتُ إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ وَأَجْرِى عَلَى اللهِ، فَقَالَ خُذْ مَا أُعْطِيْتَ فَإِنِّيْ عَمِلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَعَمَّلَنِيْ فَقُلْتُ مِثْلَ قَوْلِكَ فَقَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أُعْطِيْتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَ فَكُلْ وَتَصَدَّقْ

হযরত ইবনু সায়ে’দী আল মালেকী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে নিযুক্ত করলেন যখন আমি কাজ শেষ করলাম এবং তার কাছে পৌঁছিয়ে দিলাম তখন তিনি নির্দেশ দিলেন আমাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য।আমি বলিলাম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমি এটা করিয়াছি সুতরাং আল্লাহর নিকট থেকে এর প্রতিদান নিব তিনি বললেন আমি যা দিচ্ছি তা নিয়ে নাও। কেননা আমিও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় যাকাত আদায়কারীর কাজ করেছি তখন তিনিও আমাকে পারিশ্রমিক প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন আমিও তোমার মতো এরূপ কথা বলেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন যখন তুমি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে কিছু দেওয়া হয় তখন তুমি তা গ্রহণ করো তুমি তা নিজে খাও অথবা সদকা কর।

অন্য একটি হাদিসের মধ্যে এই বিষয় সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে আতা ইবনু ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য যাকাত নেওয়া হালাল নয়।

তবে পাঁচ শ্রেণীর ধনীর জন্য তা জায়েজ:

1} আল্লাহর পথে জিহাদে রত ব্যক্তি

2} যাকাত আদায় নিয়োজিত কর্মচারী

3} ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি

4} যে ব্যক্তি যাকাতের মাল নিজ মাল দ্বারা ক্রয় করেছে

5} মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত থেকে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দিয়েছে।

ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কোন অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া

একটি হাদিসে এসেছে যে,

ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কোন মুসলিমকে যাকাত দেওয়া
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কোন মুসলিমকে যাকাত দেওয়া

যার অর্থ হচ্ছে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত আলী (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরা পাঠালেন। তিনি এগুলো চার ব্যক্তির মাঝে বন্টন করে দিলেন প্রথম আল-আকরা ইবনু হানযালী যিনি মাজায়েশী গোত্রের লোক ছিলেন,  দ্বিতীয় উআইনা ইবনু বাদার ফাযারী,  তৃতীয় যায়েদ ত্বায়ী, যিনি পরে বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন,  চতুর্থ আলকামাহ ইবনু উলাছাহ আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন।

এতে কুরাইশ এবং আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন ও বলতে লাগলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি তো তোমাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্যই এমন মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে আসল যার চোখ দুটি কোটরাগত গন্ডদ্বয় ঝুলে পড়া কপাল উঁচু ঘন দাড়ি ও মাথা মোড়ানো ছিল সে বলল হে মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন আমিই যদি নাফরমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না।

তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ বলে ধারণা করছি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন অতঃপর যখন অভিযোগকারী লোকটি ফিরে গেল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এ ব্যক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না দ্বীন হতে তারা এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমনি ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়, তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে হত্যা করবে আর মুর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে আমি যদি তাদেরকে পেতাম তাহলে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যই হত্যা করতাম।

দাস মুক্তির জন্য যাকাত দেওয়া 

যারা লিখিত কোন চুক্তির বিনিময়ে দাসে পরিণত হয়েছে তাদেরকে মালিকের নিকট থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাকাতের অর্থ প্রদান করা যায় অনুরূপভাবে বর্তমানে কোন মুসলিম ব্যক্তি অমুসলিমদের হাতে বন্দি হলে সে ব্যক্তিও এই খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে। 

 একটি হাদিসে এসেছে যে,عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ دُلَّنِيْ عَلَى عَمَلٍ يُقَرِّبُنِيْ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِيْ مِنَ النَّارِ قَالَ لَئِنْ كُنْتَ أَقْصَرْتَ الْخُطْبَةَ لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ أَعْتِقِ النَّسَمَةَ وَفُكَّ الرَّقَبَةَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَوَلَيْسَا وَاحِدًا قَالَ لاَ عِتْقُ النَّسَمَةِ أَنْ تُفْرِدَ بِعِتْقِهَا وَفَكُّ الرَّقَبَةِ أَنْ تُعِيْنَ فِيْ ثَمَنِهَا وَالْمِنْحَةُ الْوَكُوْفُ وَالْفَىْءُ عَلَى ذِى الرَّحِمِ الظَّالِمِ فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلاَّ مِنْ خَيْرٍ- 

যার অর্থ হচ্ছে: বারা ইবনু আযেব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন প্রশ্ন তো তুমি অল্প কথায় বলে ফেললে;

কিন্তু তুমি অত্যন্ত ব্যাপক বিষয় জানতে চেয়েছ তুমি একটি প্রাণী আযাদ করে দাও এবং একটি দাস মুক্ত করে দাও।

লোকটি বলল এ উভয়টি কি একই কাজ নয় তিনি বললেন না উভয়টি এক নয়। কেননা একটি প্রাণী আযাদ করার মানে হচ্ছে তুমি একাকী গোটা প্রাণীকে মুক্ত করে দিবে আর একটি দাস মুক্ত করার অর্থ হচ্ছে তার মুক্তির জন্য কিছু মূল্য প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করবে। এদ্ভিন্ন জান্নাতে প্রবেশকারী কাজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রচুর দুধ প্রদানকারী জানোয়ার দান করা এবং এমন নিকটতম আত্নীয়ের প্রতি অনুগ্রহ করা যে তোমার উপর অত্যাচারী। যদি তুমি এ সমস্ত কাজ করতে সক্ষম না হও ক্ষুদার্তকে খাদ্য দান কর ও পিপাসিতকে পানি পান করাও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ কর। আর যদি তোমার দ্বারা এ কাজ করাও সম্ভব না হয় তবে কল্যাণকর কথা ব্যতীত অন্য কথা থেকে তোমার জিহবাকে সংযত রাখ।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার ঋণ থেকে মুক্তি বা ঋণ থেকে বিরত থাকার জন্য যাকাত দেওয়া যাবে।

একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে যে,

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি

যার অর্থ হচ্ছে, কাবীছা ইবনু মাখারেক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন একবার আমি কিছু ঋণের যিম্মাদার হয়েছিলাম। অতএব এ ব্যাপারে কিছু চাওয়ার জন্য আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে বললেন (মদ্বীনায়) আবস্থান কর যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নিকট যাকাতের মাল না আসে তখন আমি তা হতে তোমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দান করব।

অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মনে রেখ হে কাবীছা তিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য (যাকাতের মাল হতে) সাহায্য চাওয়া হালাল নয় প্রথম, যে ব্যক্তি কোন ঋণের যিম্মাদার হয়েছে তার জন্য (যাকাতের মাল হতে) সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না সে তা পরিশোধ করে তারপর তা বন্ধ করে দিবে দ্বিতীয়, যে ব্যক্তি কোন বালা মুছীবতে আক্রান্ত হয়েছে যাতে তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে তার জন্য (যাকাতের মাল হতে) সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না তার প্রয়োজন পূর্ণ করার মত অথবা তিনি বলেছেন, বেঁচে থাকার মত কোন কিছু লাভ করে এবং তৃতীয়, যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হয়েছে তার প্রতিবেশীদের ভিতরে জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন তিন জন ব্যক্তি তার দারিদ্র্যের ব্যাপারে সাক্ষী প্রদান করেছে তার জন্য যাকাতের মাল থেকে সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না সে তার জীবিকা নির্বাহের মতো অথবা তিনি বলেছেন বেঁচে থাকার মত কিছু লাভ করে হে কাবীছা এরা ব্যতীত যারা (যাকাতের মাল থেকে) চায় তারা হারাম খাচ্ছে।

আল্লাহর রাস্তায়

মহান আল্লাহ তায়ালার দ্বীনকে উন্নত করার জন্য যে কোন ধরনের প্রচেষ্টা বা দান আল্লাহর রাস্তার অন্তর্ভুক্ত।

এ খাতের অন্তর্ভুক্ত পথ হচ্ছে জিহাদ, দ্বীনী ইলম অর্জনের যাবতীয় পথ ও দ্বীন প্রচারের যাবতীয় মাধ্যম।

একে হাদিসের মধ্যে এসেছে উপরে পাঁচ শ্রেণীর ধনীর জন্য তা জায়েয { অর্থাৎ যাকাত গ্রহণ} 

১} আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি।

২} যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী।

৩} ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। 

৪} যে ব্যক্তি যাকাতের মাল নিজ মাল দ্বারা ক্রয় করেছে ও

৫} মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত থেকে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দিয়েছে।

মুসাফির

কোন ব্যক্তি সফর করতে গিয়ে তার যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ শেষ হয়ে গেছে সেই ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যায়।

আর যাকাত প্রদান করার মাধ্যমে তাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

আর এই ক্ষেত্রে মুসাফির ব্যক্তি যদি সম্পদশালী ও হয়ে থাকে তবুও তাকে যাকাত প্রদান করা যেতে পারে।

আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন যাকাতের খাত কয়টি ও কি কি এবং এগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা।

আরো পড়ুন: যাকাত কাদের উপর ফরজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *