মানসম্মত শিক্ষা কাকে বলে?

মানসম্মত শিক্ষা কাকে বলে: শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর সময় শুধুমাত্র সনদ পাওয়ার আশায় শিক্ষা প্রদান না করে, বাহ্যিক অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবহিত করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নত করার প্রক্রিয়াকে মানসম্মত শিক্ষা বলে।

শিক্ষার্থীকে পাঠ্য বইয়ের পাঠ্য দান করার সাথে সাথে নৈতিক আচরণ বৃদ্ধি ও সামাজিক মূল্যবোধ সহ বাহ্যিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা প্রদান করাকে মানসম্মত শিক্ষা বলে। শিক্ষার্থীকে সকল বিষয় অবগত করার জন্য অবশ্যই মানসম্মত শিক্ষা প্রয়োজন কেননা ইহার মাধ্যমে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন হয়।

এই মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করার ফলে শিক্ষার্থী কোন সনদ পাওয়ার জন্য পড়ালেখা করে না বরং শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের জন্য করে।

জ্ঞান অর্জন করার জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা যার মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব ও অন্যান্য বিষয় বিকাশ সাধিত হয়।

মানসম্মত শিক্ষা কাকে বলে
মানসম্মত শিক্ষা কাকে বলে?

সকল কিছুর উপর বিবেচনা করে একটি কথা অবশ্য সত্য যে বর্তমানে সকল শিক্ষার্থী সনদ পাওয়ার জন্য এবং যোগ্যতা দেখানোর জন্য শিক্ষা গ্রহণ করে। আর এতে কখনোই প্রকৃত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য নয় কেননা প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে ওই শিক্ষা যেখানে শিশু জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করে, সনদ পাওয়ার আশায় নয়।

তাই বলে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের ফলে সনদ প্রাপ্ত হবে না এমন না বরং এর মাধ্যমে আপনার সনদের ধ্যান দূর হয়।

অর্থাৎ আপনি নিজেকে শিক্ষিত করার জন্য এবং জ্ঞান অর্জন করার জন্য জ্ঞান ক্ষুধায় জীবন অতিবাহিত করবেন।

এর ফলে দেখা যাবে যে আপনার সনদ প্রাপ্ত হবে এবং সেই সাথে ক্যারিয়ার গঠন হবে কিন্তু জ্ঞান ক্ষুদা নিবারণ হবে না এবং আপনি জ্ঞান ক্ষুধা নিবারণ করার চেষ্টা করবেন। আর যখন আপনি জ্ঞান খুদা নিবারণ করার চেষ্টা করবেন তখন অবশ্যই ধীরে ধীরে আরো বেশি উন্নতির দিকে নিজের জীবন অতিবাহিত করাবেন।

মানসম্মত শিক্ষার উপাদান কয়টি ও কি কি?

একটি শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণরূপে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করার জন্য কয়েকটি উপাদান বা উপকরণের প্রয়োজন হয়।

এবং এই উপকরণগুলো বা উপাদান গুলোর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী মান-সম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে বা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণেরের জন্য শিক্ষা অর্জন করে।

আপনি যদি মানসম্মত শিক্ষা সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্যের পেতে চান তাহলে অবশ্যই মানসম্মত শিক্ষার সকল উপাদান সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

মানসম্মত শিক্ষার উপাদান সংখ্যা হচ্ছে অসংখ্য, তবে নিচে কতিপয় উল্লেখযোগ্য উপাদান সমূহ উল্লেখ করা হলো:

  • শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করার জন্য মানসম্মত শিক্ষক।
  • শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে মানসম্মত শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার।
  • মানসম্মত পরিবেশ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে মনোযোগী করার জন্য।
  • শিক্ষা প্রদান করার সময় মূল্যায়নের উপর লক্ষ্য রেখে প্রত্যেককেই উচিত মূল্যায়ন প্রদান করা।
  • প্রশ্ন করা, প্রশ্ন ধরা এবং প্রশ্ন তৈরি করার মত সৃজনশীল মনোভাব বৃদ্ধির জন্য সকল শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা।

এগুলো হলো মানসম্মত শিক্ষার কিছু উপাদান এবং এ উপাদানগুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা হয়।

বর্তমানে যদিও মানসম্মত শিক্ষার অভাব কিন্তু তবুও আমাদেরকে এই শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছানোর জন্য মানসম্মত শিক্ষক খুঁজে বের করতে হবে।

একজন মানসম্মত শিক্ষকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে যে, সে শিক্ষা সম্পর্কে প্রথমে শিশুকে অবগত করবে এবং কিভাবে শিক্ষার জ্ঞান ক্ষুধা হবে তা বুঝিয়ে বলবে। মানসম্মত শিক্ষা মূলত শিশুকে প্রাথমিক অবস্থায় প্রদান করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজ পরিবার হতে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করা অধিক কার্যকর।

শেষ কথা:

মানসম্মত শিক্ষা কাকে বলে এবং মানসম্মত শিক্ষার উপাদান কয়টি ও কি কি এ বিষয়ের উপর তথ্য দেওয়া হয়েছে এখানে।

আর অবশ্যই শিক্ষা অর্জন করার জন্য যেহেতু মানসম্মত শিক্ষার দিকে ধাবিত হতে হবে তাই এই তথ্যগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

মূলত শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করার ফলে শিশু শিক্ষা অর্জন করার জন্য অনেক বেশী উদ্বেগী হয়ে পড়ে এবং জ্ঞানী হয়ে ওঠে। আর এজন্য শিশুকে ভালো মানের সনদ কিভাবে নিতে হবে এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না বরং এই ভালো মানের এমনিতে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যোগ হয়।

মানসম্মত শিক্ষার ফলে শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করাতে উদ্যোগী হয় এবং ফলস্বরূপ শিশুর যোগ্যতা সনদ অনুযায়ী অনেক বেশি বলে প্রমাণিত হয়।

বর্তমানে যতগুলো বুদ্ধিমান ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই জ্ঞান ক্ষুধা রয়েছে এবং মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের ফলে সম্মানী হয়েছে।

মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করার ফলে শিশুকে তার পরবর্তী জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করার জন্য কোন অনুপ্রেরণা দিতে হবে না। বরং শিক্ষার্থী নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে এবং সেই সাথে উচ্চপদে নিজেকে নিয়ে যেতে পারবে কারো কোন সহায়তা ছাড়াই।

সুতরাং বলা যায় যে, মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থী নিজের উপর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং নিজের ভবিষ্যৎ উন্নত করে।

আর নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ উন্নত করার ক্ষেত্রে এবং কর্মসংস্থান সঠিক নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা।

আরও পড়ুন: গুণগত শিক্ষা কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!