বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কি? বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সুবিধা, অসুবিধা এবং ব্যবহার

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কি: যে সকল ডিভাইস বা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় সেগুলোই হচ্ছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি। বর্তমানে শুধু আমাদের দেশ না সারা বিশ্বে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে এবং অনেকে বিদ্যুৎ কে বেশি পরিমাণে অপচয় করে ফেলছে বিভিন্ন কাজে।

আবার অনেকে কাজ-কাম ছাড়া অন্য কোন কারণে বা এমনি এমনি বিদ্যুৎকে অপচয় করে থাকে যা সত্যি একটি নিন্দনীয় কাজ। আমরা হয়তোবা ইচ্ছা করলেই বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে পারি না কিন্তু আমরা ইচ্ছা করলে বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে পারব।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কি
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কি?

আমরা ইচ্ছা করলেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারব এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আমাদের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে ফেলতে পারব। আর এই বিদ্যুতের সাশ্রয় করার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিবিদরা এমন এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করছে যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যাবে।

যেহেতু বর্তমানে কৃষি কাজ থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেভেল এর সকল কাজে বিদ্যুৎ ছাড়া সম্ভব নয় বা বিদ্যুৎ ছাড়া কল্পনা করা যায় না। তাই আমরা যাতে বিদ্যুৎ কাজে লাগিয়ে এই সকল কাজ ভবিষ্যতে করতে পারি এর জন্য আমাদেরকে অবশ্যই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সুবিধা:

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সুবিধা যে কতগুলো আছে তা আমরা একবারে বলা সম্ভব না বা বলতে পারব না এর কারণ হচ্ছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সুবিধা প্রচুর। তারপরও এখানে আমি আপনার জানার জন্য এবং আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্য নিচে কিছু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সুবিধা তুলে ধরলাম।

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় কম হয় এবং বিদ্যুৎ বিল কম আসে।
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার করার কারণে বিদ্যুৎ বিল কম আসে এবং দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নত হয়।
  • এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ হয়ে যায় সেই সাথে অপচয় হয় না।
  • ভালো দামের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি অনেক আধুনিক হয় যার কারণে এগুলি সহজে নষ্ট হয় না।
  • আর এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি থেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যায় যেমন: এলিডি বাতিতে আলো বেশি পাওয়া যায়।
  • এই সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করা অনেক সহজ হয়ে থাকে।
  • আর এই সকল প্রযুক্তি অনেক হালকা হয় যার কারণে খুব দ্রুত একই স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়।
  • এই সকল প্রযুক্তি সমূহের তার ধারণ ক্ষমতা এবং তাপ নিষ্কাশন ক্ষমতা বেশি থাকে বলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির মধ্যে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত শর্ট সার্কের এড়ানোর ক্ষমতা কিছুটা থাকে, যার কারণে বিদ্যুৎ জনিত সমস্যা কম হয়।

আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারব তা ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারব, এর জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এগুলো ছিল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কিছু সুবিধা আমি উপরে উল্লেখ করেছে কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির আরো অনেক সুবিধা রয়েছে। আর এই সকল সুবিধা এই একটি পোস্টের মধ্যে বলা সম্ভব নয় কিংবা আপনিও এতগুলো সুবিধা পড়তে চাইবেন না।

 তাই আমি এখানে এই সকল প্রযুক্তির কিছু নমুনা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভালো দিক তুলে ধরলাম যাতে আপনি বুঝতে পারেন।

আর  আপনি এই সকল বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রযুক্তি ব্যবহার করেন নিজে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন এবং বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে পারেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির অসুবিধা

 এই পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি জিনিসের যেমন একটি ভাল দিক রয়েছে তেমনি একটি খারাপ দিক রয়েছে আর এই প্রযুক্তিও এর বিপরীত নয়। অর্থাৎ এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সমূহেরও কিছু ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমনি খারাপ দিক রয়েছে কিন্তু খারাপ দিকটি কম।

আর আমরা যদি ভালোভাবে দেখি তাহলে এই খারাপ দিকগুলো একটি ভালো দিক হিসেবে মনে হবে কেননা খারাপ দিক বলতে নাই।

চলুন তাহলে কিছু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির অসুবিধা বা বিদ্যুৎ শাস্ত্রই প্রযুক্তির খারাপ দিক সম্পর্কে জেনে নেই।

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সমূহের দাম তুলনামূলক একটু বেশি হয়।
  • এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তিসমূহ হালকা মেটারিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এগুলো খুব সহজে ভেঙে যেতে পারে তাই সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
  • এই সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করার আগে এই সকল প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হয় তাহা না হলে সহজে ব্যবহার করা যায় না।
  • পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে বিদ্যুৎ শাস্ত্রের প্রযুক্তি তৈরি করা হয় যার কারণে পরিবেশের কিছুটা ক্ষতি হয়।
  • এই সকল প্রযুক্তিতে বেশিরভাগ প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় যার কারণে এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে মাটি দূষণ করতে পারে।

তাই এগুলোকে যথা সাবধান একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে রাখতে হয় যাতে এগুলো সেখানে ভালোভাবে নষ্ট হতে পারে।

এগুলো ছিল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কিছু অসুবিধা যেগুলো আমি এখানে উল্লেখ করলাম হয়তোবা এর আরো কিছু অসুবিধা থাকতে পারে।

কিন্তু আমরা যদি এর সুবিধার দিকে লক্ষ্য করে তাহলে আমরা দেখব যে এই অসুবিধা সমূহ আসলে কোন অসুবিধাই নয়।

 কেননা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি থেকে আমরা অনেক প্রকাশ সুবিধা পেয়েছি এবং এই সকল সুবিধা আমরা সব সময় ব্যবহার করতে পারব। আমাদের সকলেরই উচিত বিদ্যুৎ শক্তিকে স্বাস্থ্য করা এবং বিদ্যুৎ শক্তিকে কাজে লাগানো আমাদের যথার্থ প্রয়োজন অনুযায়ী।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা জানলাম বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কি এই প্রশ্নের উত্তর এবং এই প্রশ্নটির উত্তর সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিস্তারিত জ্ঞান।

এখন আমরা এই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আরো কিছু বিস্তারিতভাবে জানবো এবং বুঝার চেষ্টা করব।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধুমাত্র প্রযুক্তির মাধ্যমে হওয়া সম্ভব তা কিন্তু নয় এর জন্য আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ধরেন আপনি একটি বিদ্যুৎ শাস্ত্রের বাতি নিয়ে আসলেন কিন্তু আপনার প্রয়োজন ছাড়া আপনি সারারাত সেটা জ্বালিয়ে রাখলেন।

তাহলে এক্ষেত্রে এই বাটি নিয়ে এসে আপনার লাভ কি হল আপনি তো বাতিটাকে অপচয় করলেন অপচয় করে ব্যবহার করলেন।

তাহলে  বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে পারলেন না বরং আপনি নিজের হাতে বিদ্যুৎ অপচয় করলেন।

তাই এই বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করার জন্য অবশ্যই অবশ্যই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিদ্যুৎ অপচয় কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে জানতে হবে। অযথা ও প্রয়োজনীয় এমন কিছু কাজ করবেন না যার কারণে বিদ্যুৎ অপচয় হয় এবং বিদ্যুৎ জনিত সমস্যা হয়।

কেননা বিদ্যুৎ আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকি বিদ্যুৎ ছাড়া একটি মুহূর্ত আমরা কল্পনা করতে পারব না।

কিন্তু তবুও আমরা যদি এই বিদ্যুৎ কি অপচয় করে তাহলে আমরা ব্যবহার করবো কি তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রোগ্রামিং ভাষা কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *