ফরজ অর্থ কি? ফরজ কাকে বলে? ফরজ কত প্রকার ও কি কি?

ফরজ অর্থ কি: ফরজ আরবি শব্দ, এর বাংলা অর্থ হলো: অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যকীয়, অপরিহার্য, আবশ্যক এবং মূল উপাদান ইত্যাদি। অর্থাৎ ইসলাম অনুযায়ী যে সকল কাজ, বিধান অবশ্যই আপনাকে আমাকে পালন করতেই হবে কোন ছাড় নেই সেগুলো হচ্ছে ফরজ ইবাদত।

এই ফরজ বলতে এটি ইসলামিক পরিভাষায় ইবাদতকে বোঝানো হয়ে যা অবশ্যই আমাদেরকে আল্লাহ সন্তুষ্টি আদায়ের জন্য পালন করতে হবে।

ফরজ অর্থ কি
ফরজ অর্থ কি?

এই ফরজ হচ্ছে অবশ্য পালনীয় একটি ইবাদত এবং এই ইবাদতটি অবশ্যই কোন ভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না বা বাদ দেওয়া যাবেনা।

অন্যান্য যে সকল ইবাদত রয়েছে যেমন সুন্নত বা নফল সেগুলো বাদ দিলে কোন প্রকার অসুবিধা বা গুনাহ হবে না।

তবে ফরজ ইবাদত বাদ দেওয়ার ফলে আপনার অনেক বেশি গুনাহ হতে পারে এবং ফরজ নামাজ বাদ দিলে জাহান্নাম অবধারিত হতে পারে (আল্লাহ দয়া করলে জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবেন)। আর এই সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে অবশ্যই আপনাকে আমাকে ফরজ ইবাদত কখনো বাদ দেওয়া মোটেও উচিত হবে না।

ফরজ কাকে বলে?

ফরজ কাকে বলে: ইসলামী শরীয়তের যে সকল বিধান কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য, পালনীয়, অপরিহার্য, আবশ্যক, মূল উপাদান এবং অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।

যে সকল ইবাদত আপনাকে আমাকে অবশ্যই করতে হবে, কোন ছাড় নেই সে সকল ইবাদত গুলোকে ফরজ বলে বিবেচনা করা হয়।

ফরজ ইবাদাতের মধ্যে সবচেয়ে প্রধান ইবাদত হচ্ছে সালাত কায়েম করা এবং সেই সাথে পুরুষ হলে মসজিদে গিয়ে আদায় করা।

এই ফরজের আবার প্রকারভেদ রয়েছে যেগুলোর উপর ভিত্তি করে কিছু কিছু ফরজ রয়েছে যেগুলো একজন আদায় করলে সকলের আদায় হয়।

ফরজ হচ্ছে এমন একটি ইবাদত যার কোন ছাড় নেই এবং এই সকল ইবাদত আদায় না করলে অনেক বেশি গুনাহ হয়।

সর্বক্ষেত্রে ফরজ ইবাদত আদায় করার বিষয় মুসলমানদেরকে বেশি অনুপ্রেরণা প্রদান করা হয়েছে এবং তাগিদে দেওয়া হয়েছে।

এই ফরজ সর্বক্ষেত্রে নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এমনটি না বরং আরো অনেকগুলো ফরজ ইবাদত রয়েছে যেগুলো আপনাকে পালন করতে হবে।

ফরজ কত প্রকার ও কি কি?

আমরা ফরজ নামতে হয়তোবা ইতিমধ্যে অনেকবার শুনেছি কিন্তু এই ফরজের আবার কিছু প্রকারভেদ রয়েছে আমলের দিকে।

অর্থাৎ আমলের ভিত্তিতে আমরা ফরজকে বিভিন্নভাবে পালন করতে পারি এবং এর উপর ভিত্তি করে ফরজ এর পার্থক্য অনুযায়ী ভাগ হয়েছে।

ফরজ পালনের উপর ভিত্তি করে ফরজ প্রধানত দুই প্রকার, যথা:

  • ফরজে আইন (সকলের উপর পালন করা অত্যাবশ্যক)
  • এবং ফরজে কিফায়া (সমষ্টিগতভাবে ফরজ কাজ)

ফরজে আইন: যে সকল ফরজ কাজ ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি বালেগ, বিবেকবান নর এবং নারীর উপর সমানভাবে ফরজ বলে ঘোষণা করা হয়েছে তাকে ফরজে আইন বলে।

উদাহরণ: দিনে পাঁচবার পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, রমজান মাসে রোজা পালন করা এবং ঈমান আনা ইত্যাদি।

ফরজে কিফায়া: যে সকল ফরজ কাজগুলো প্রত্যেকটি মুসলমানের ওপর ফরজ করা হয়েছে, কিন্তু নির্দিষ্ট এলাকার বা জনগোষ্ঠীর কিছু লোক তা আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায় এবং একজনও আদায় না করলে সকলে গুনাহগার হয়ে যায় তাকে ফরজে কিফায়া বলে।

উদাহরণ: মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ আদায় করা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: কিয়াস কি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top