গরু মোটাতাজা করণ ঔষধের নাম । গরু মোটাতাজা করণ পাউডার

গরু মোটাতাজা করণ ঔষধের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • এ-মেকটিন প্লাস ভেট।{A-mectin plus vet}
  • এলটি ভেট।{Lt-vet}
  • লিভার টনিক।{ Liver tonic}
  • জিংক।{zinc}
  • নাইট্রোনেক্স ভেট।{Nitronex vet }
  • বায়োনাল ফর্টি।{bional forte} অথবা বি ফিফটি {B 50}
  • রেনাসল এডি ৩ {Renasol AD3E}
  • এমাইনোভিট প্লাস {Aminovit plus}
  • এ সল {A-sol} অথবা ক্যাটোফস ভেট {Catophos vet}
  • B B vitamin অথবা Calfostonic DB অথবা  Megavit DB 

এগুলো হলো কতিপয় গরু মোটাতাজা করণ ঔষধের নাম যা উল্লেখ করা হয়েছে।  এই ঔষধ সমূহের মধ্যে উপরের ঔষধ গুলো হলো কৃমিনাশক বা কৃমির জন্য।কোন গরুর যদি কৃমি থাকে তাহলে ওই গরু মোটা হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে এই কৃমি।তাই যে কোন গরুকে কৃমিনাশক প্রয়োগ করা উচিত কেননা ঐ গরু যদি কৃমির দ্বারা আক্রান্ত থাকে তাহলে তার খাদ্যের মধ্যে ভাগ বসায় কৃমি।

কৃমির কাজ হলো  পোশাক দেহ কর্তৃক গ্রহনকৃত খাদ্য ভক্ষণ করা আবার এমন অনেক কৃমি আছে যারা পোষক দেহ কর্তৃক গ্রহণ কৃত খাদ্য না খেয়ে পোষক দেহ যখন খাদ্য হজম করে ফেলে তার পুষ্টিকে তারা সংগ্রহ করে ।

আপনি যখন বাজার থেকে গরু ক্রয় করে নিয়ে আসবেন তখন আপনার প্রথম কাজ হবে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট  অর্থাৎ পটাশ পানি দিয়ে গরুর পায়ের খুরা ধুয়ে দিবেন। এরপর ঐ গরুকে আপনারা ভালো মতো করে গোসল করিয়ে দিবেন।

বাজার থেকে নিয়ে আসার পর ঐ গরুকে আপনারা ১৪ দিন আলাদা রাখবেন।

অর্থাৎ আপনার খামারে যে সকল আগের পশুর রয়েছে তাদের সাথে রাখবেন না। 

এর কারণ হলো ওই গরু যদি কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত থাকে তাহলে ঐ ভাইরাস আপনার  সুস্থ গরুকে ধরতে পারে।

এরপর গরুকে একটি ব্যথানাশক খাইয়ে দিবেন।  কেননা বাজারে থাকার পর গরু বিভিন্নভাবে ব্যথা পেতে পারে অথবা আপনি যখন যে গাড়িতে নিয়ে আসেন সেখানে ব্যথা পেতে পারে। তাই গরুকে একটি ব্যথা নাশক খাওয়ানো উচিত।

এ-মেকটিন প্লাস ভেট {A-mectin plus vet}

এই এ-মেকটিন প্লাস ভেট হলো কৃমিনাশক ঔষধ।এই ওষুধটি গোলকৃমি ফিতা কৃমি এবং চামড়া কৃমির জন্য খুবই কার্যকরী একটি ঔষধ। এ সকল ক্ষেত্রে এই ঔষধের কার্যকারিতা সবথেকে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।আর বহি পরজীবীর ক্ষেত্রেও এটি কাজ করে থাকে যেমনঃ উকুন আঠালি ইত্যাদি। গর্ভাবস্থায়ও এই ঔষধ প্রদান করা যায়।

 এই কৃমিনাশক প্রতি ১০০ কেজি গরুর জন্য ৫ থেকে ৬ এম এল প্রয়োগ করতে হবে। আপনি যদি কৃমিনাশক সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে আপনার গরু মোটা হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি থাকবে।

এলটি ভেট।{Lt-vet}

৪০ থেকে ৭০ কেজি ওজনের গরুর জন্য একটি করে এই ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

এ-মেকটিন প্লাস ভেট {A-mectin plus vet} এই ঔষধ খাওয়ানোর পাঁচ দিন পরে এই এলটি ভেট ঔষধ দিতে হবে। 

লিভার টনিক।{ Liver tonic}জিংক।{zinc}

এই কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানোর পাশাপাশি আপনাকে আপনার গবাদিপশুকে অবশ্যই লিভার টনিক এবং জিংক খাওয়াতে হবে লিভার টনিক আপনি যে কোন ঔষধ লিভার টনিক ঔষধ খাওয়াতে পারেন।  লিভার টনিক আপনার গরুর হজম শক্তি এবং লিভার কে ঠিক রাখবে। যাতে করে আপনার গরু বেশি পরিমাণ খাওয়ার খেলেও তার পেটের কোন সমস্যা খুব সহজে হবে না।

 জিংক আপনার গরুর রুচি বাড়িয়ে দিবে। যার কারনে আপনার গরু আগের তুলনায় বেশি খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে।

আর খাবার খেলেই তো মোটা হবে, কোন প্রাণীর শরীরে যদি খাবার না যায় তাহলে সে মোটা হবে কিভাবে।

নাইট্রোনেক্স ভেট।{Nitronex vet }

এই ঔষধিটি হলো কলিজা কৃমির জন্য। আমরা যে সকল গরু বাজার থেকে ক্রয় করি তাদের মাঝে এমন কোন গরু থাকেতে পারে যার কলিজা কৃমি থাকতে পারে।এই রোগের জন্য এই নাইট্রোনেক্স ভেট।{Nitronex vet } ঔষধটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী বলে প্রমাণিত। 

এই নাইট্রোনেক্স ভেট।{Nitronex vet }  ইনজেকশনটি আপনারা ১০০ কেজি গরুর জন্য পাঁচ থেকে ছয় মিলে প্রয়োগ করবেন।

এখন আপনার গরুর ওজন যদি ১০০ কেজির কম হয় তাহলে সে অনুযায়ী পরিমাপ করে প্রয়োগ করবেন ঔষধ।

আর আপনার গরুর ওজন যদি ১০০ কেজির বেশি হয়ে থাকে তাহলে সে অনুযায়ী হিসাব করে প্রয়োগ করুন।

বায়োনাল ফর্টি।{bional forte} অথবা বি ফিফটি {B 50}

এগুলো রুচির ঔষধ, যা আপনার পোষা প্রাণীর খাবার চাহিদা বৃদ্ধি করবে, জিংকের পাশাপাশি আপনাকে এই ঔষধ গুলো খাওয়াতে হবে কেননা  জিংক এর মধ্যে  কিছু পরিমাণ ভিটামিন থাকে যা আপনার গরুকে বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর এই সকল ঔষধ সমূহের মধ্যেও কিছু ভিটামিন আছে যা জিংক এর মধ্যে নেই। এই ঔষধ সমূহের ভিটামিন গুলোও আপনার গরুকে দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

আপনি এই দুইটি ঔষধের মধ্যে যে কোন একটি ঔষধ খাওয়াতে পারেন।এই ঔষধ আপনি প্রতি ১০০ কেজি গরুকে ১০ মিলি হতে ১৫ মিলি করে খাওয়াতে পারেন। 

রেনাসল এডি ৩ {Renasol AD3E}

গরু মোটাতাজা করণ ঔষধের নাম গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ঔষধে  রয়েছে ভিটামিন এ বি সি ডি।

প্রায় সকল প্রকার ভিটামিন এই ঔষধে রয়েছে। যা আপনার গরু মোটাতাজাকরণে খুব বেশি ভূমিকা পালন করবে।

রেনাসল এডি ৩ {Renasol AD3E}
রেনাসল এডি ৩ {Renasol AD3E}

এই রেনাসল এডি ৩ {Renasol AD3E}  ঔষধটি আপনারা সাত দিন পর পর তিনবার করে খাওয়াবেন ।  এই কথাটি ভালোভাবে  মনে রাখবেন যে এই ঔষধিটি আপনাকে সাত দিনের মধ্যে একবার খাওয়াতে হবে আর একটি তিন মাস মেয়াদী  গরুকে আপনি তিনবার খাওয়াবেন। এর বেশি  খাওয়াবেন না।

B B vitamin অথবা Calfostonic DB অথবা  Megavit DB 

আপনি যদি গরুকে ঘাস খাওয়ান  তাহলে আপনাকে এই ঔষধ গুলো খাওয়াতে হবে না। কিন্তু আপনি যদি গরুকে ঘাস না খাওয়ান।

তাহলে আপনাকে B B vitamin অথবা Calfostonic DB অথবা  Megavit DB  এই ঔষধ গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি চালাতে হবে।

 এই ঔষধ গুলো আপনার গরুর ঘাসের চাহিদা পূরণ করবে অর্থাৎ ঘাস খেলে যে পুষ্টি পাওয়া যায় তা এই ঔষধ খেলে পাওয়া যাবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো যে এই ঔষধ গুলো খাওয়ানোর চেয়ে ঘাস খাওয়ানো বেশি উপকারী।

তবে যদি একান্তই ঘাস খাওয়াতে না পারেন তাহলে এই ঔষধ গুলো চালাতে হবে যদি আপনি আপনার গরুকে মোটাতাজা করতে চান।

কারণ মোটাতাজা করার জন্য ঘাসেরও ভূমিকা রয়েছে প্রচুর আমাদের গবাদি পশু বিশেষ করে গরুর জন্য। 

গরু মোটাতাজা করণ পাউডার

  • গ্রোথ ফর্মুলা
  • এসি ফ্যাট {ACI FAT}
  • এসি ফ্যাট {ACI FAT}
  • নিচে এগুলো সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো।আর গরুকে কি পরিমাণ খাওয়াতে হবে তা নিচে উল্লেখ করা হলো। 
  • গ্রোথ ফর্মুলা {Growth Formula}

এই গ্রোথ ফর্মুলায় রয়েছে ভিটামিন A, ভিটামিন B3,ভিটামিন E, ভিটামিন D3, আয়োডিন, কপার, কোবাল্ট,সোডিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি। এ মেডিসিন টি হলে একটি তুর্কিও মেডিসিন অর্থাৎ এটি বাংলাদেশের তৈরি হয় না। এডি তুর্কি থেকে আমদানিকৃত।

এইা গ্রোথ ফর্মুলা একজন প্রাপ্তবয়স্ক গরুকে দৈনিক 30 গ্রাম করে খাওয়াতে হবে।

এসি ফ্যাট {ACI FAT}

এসিআই কোম্পানির এই এসি ফ্যাট {ACI FAT}  পাউডার গরু মোটাতাজাকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখতেছে।

এই পাউডার রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের এনজাইম, বিভিন্ন প্রকারের ভিটামিন, বিভিন্ন গ্রোথ ফ্যাক্টর।

যা আপনার গরুকে খুব দ্রুত মোটাতাজাকরণে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে ও উৎপাদনে শ্রম কমায়।

এই পাউডার খাওয়ানোর নিয়ম হলো প্রতিটি গরুকে দিনে দুইবার পঞ্চাশ গ্রাম করে ১০০ গ্রাম দিতে হবে। আর এই পরিমাণ হলো প্রতি 100 কেজি গরুর জন্য।

আর এখন আপনার গরুর ওজন যদি ১০০ কেজির কম হয় তাহলে সে অনুযায়ী পরিমাপ করে প্রয়োগ করবেন আর আপনার গরুর ওজন যদি 100 কেজির বেশি হয়ে থাকে তাহলে সে অনুযায়ী হিসাব করে প্রয়োগ করুন।

আরও পড়ুন: ব্যাঙ খাওয়া কি হারাম?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top