গবেষণা কি? গবেষণা কাকে বলে? গবেষণার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

গবেষণা কি: জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা পদ্ধতিগত সৃজনশীল কাজই হচ্ছে গবেষণা। একটি বিষয় সম্পর্কে বোঝার জন্য, সে বিষয়ে প্রমাণ করার জন্য, সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য পদ্ধতিগত কার্যপদ্ধতি অনুশীলন করা হচ্ছে গবেষণা।

এই গবেষণা হচ্ছে একটি ধারাবাহিক কার্যপদ্ধতির নাম যার নির্দিষ্ট ধাপ অনুশীলন করার মাধ্যমে এই পদ্ধতি সম্পাদিত হয়। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করার জন্য সে বিষয়ের উপর গবেষণা করা অত্যন্ত জরুরী এবং সঠিক গবেষণা জরুরী।

গবেষণা কি
গবেষণা কি

একটি বিষয় সম্পর্কে গবেষণা করার মাধ্যমে মানুষ এই বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে এবং বুঝতে পারে। আর গবেষণা করার মাধ্যমেই মানুষ আজ পর্যন্ত এত সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং উন্নত হতে পেরেছে।

গবেষণা কাকে বলে?

মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা, পদ্ধতি, যন্ত্রপাতি ও সৃজনশীলতা ব্যবহারের মাধ্যমে কোন কিছুকে ব্যাখ্যা করা বা সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। আবার বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরি করা বিভিন্ন প্রযুক্তিকে নিজেদের কাজে লাগানো এক প্রকার গবেষণা।

আবার আগের তৈরিকৃত প্রযুক্তিকে গবেষণা করে কিভাবে উন্নত থেকে উন্নততর করা যায় তার বিবেচনা করা হচ্ছে গবেষণা।

অর্থাৎ গবেষণার সাথে আমরা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এবং গবেষণার মাধ্যমেই আমাদের উন্নতি সাধন করা সম্ভব।

গবেষণা করার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারব এবং জানতে পারলে আমরা সেই বিষয়টি কাজে লাগাতে পারব। আমরা জানি যে বাতাস প্রবাহিত হয় কিন্তু এই বাতাস প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে যা বিদ্যুৎ এবং বাতাস সম্পর্কে গবেষণা করার ফল।

গবেষণার বৈশিষ্ট্য 

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা জানলাম যে গবেষণা কি সে সম্পর্কে খুবই ছোট আকারে বিস্তারিত এবং সম্মুখ ধারণা।

আর এখন নিচে আপনার বোঝার সুবিধার জন্য গবেষণার বৈশিষ্ট্য সমূহ তুলে ধরা হলো:

১) গবেষণা হচ্ছে পদ্ধতিগত বা কৌশলে সঠিক অনুসন্ধান।

২) গবেষণা নিবেদিত হয় বিশেষ কোনো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে।

৩) গবেষণার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জ্ঞান বা উপাত্ত সংগ্রহ করা এবং বিশ্লেষণ করা।

৪) সব সময়ের জন্য এই গবেষণা প্রক্রিয়া হয়ে থাকে ধারাবাহিক এবং সুশৃঙ্খলভাবে।

৫) এই গবেষণা কে অবশ্যই অবশ্যই বাস্তবে হতে হবে এবং সেই সাথে তথ্য নির্ভর হতে হবে।

৬) গবেষণার ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্তক থাকতে হবে এবং ভালো ও খারাপ বিষয় নিরপেক্ষতা থাকতে হবে।

৭) গবেষণা হবে যুক্তিযুক্ত  আর সম্ভাব্য সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহারিত পদ্ধতি, এবং এর থেকে গৃহীত উপাত্ত সমূহ ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। 

৮) অনুমোদিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য যথার্থ কৌশল অবলম্বন করে উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে।

৯) এটি একটি ব্যয়বহুল, চরম সাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ বিষয় তাই ধীরস্থির ভাবে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে কাজ করতে হবে।

১০) একজন গবেষককে অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং সাহসী হতে হবে এবং গবেষণা তথ্য যদি সমাজের নিয়মের বাহিরেও চলে যায় তবুও তা প্রকাশের সাহস রাখতে হবে।

১১) গবেষণা করার মধ্যে গবেষণার উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ থাকবে এবং এর মধ্যে সহজ ধারণা থাকবে।

১২) গবেষণার কোন সমস্যা নিয়ে যদি কারো ধারণা থেকে থাকে তাহলে শুধু এই সমস্যা নিয়ে থাকলেই হবে না এই সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজতে হবে।

উপরে আমি যে সকল আলোচনা করলাম এর সবগুলোই ছিল গবেষণার বৈশিষ্ট্য এর পাশাপাশি গবেষণার আরো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

আপনি যদি এই বৈশিষ্ট্য সমূহ জানতে পারেন তাহলে গবেষণার সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন এবং আপনার বুঝতে সুবিধা হবে।

গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

গবেষণার লক্ষ্য অনেকগুলি হতে পারে একটি লক্ষ্য নিয়ে কখনো গবেষণা সম্ভব হতে পারে না বা সম্পন্ন হতে পারে না।

তাই এই কথাটি বলা সম্ভব নয় বা বলা অনেকখানি মুশকিল যে গবেষণা লক্ষ বা গবেষণার উদ্দেশ্য কি হতে পারে।

তবে কিছু কিছু এমন উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য রয়েছে যেগুলো গবেষণা করার জন্য জরুরী এবং এগুলো লাগবেই। এই সকল উদ্দেশ্য গুলি ছাড়া কেউ গবেষণা করে না বা গবেষণা করতে চায় না নিচে গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেওয়া হলো:

১) গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা।

২) আবার এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা গবেষণা করার মাধ্যমে নতুন কোন গবেষণার ডিগ্রী অর্জন করতে চান।

৩) যে সমস্যার সমূহের সমাধান হয় না গবেষণার মাধ্যমে সেই সকল সমস্যা কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সমাধানের চেষ্টা করা।

৪) গবেষণার মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় প্রদান করা।

৫) গবেষণা করার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং এই সমস্যার সমাধান করে সেবা প্রদান করা।

৬) সমাজের মধ্যে সমাজচিন্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা গবেষণার মাধ্যমে।

৭) বিভিন্ন প্রকার প্রশ্নের উত্তর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করার মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করা।

৮) মানুষ এবং তার পরিপার্শ্বিক পরিবেশের কল্যাণ সাধন করার জন্য কাজ করা।

৯) যে বিষয়টি ইতিপূর্বে সকলের মাঝে অপরিচিত ছিল সেই বিষয়টিকে সকলকে জানিয়ে দেওয়া।

১০) সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।

মূলত এই সকল কারণেই গবেষণার প্রয়োজন হয় আর এগুলোই ছিল গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই সকল উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য একজন মানুষ বা একজন বিজ্ঞানী মূলত গবেষণা করে থাকে।

আশা করি আপনি আমাদের সম্পূর্ণ পোস্টটি করেছেন এবং পোস্টটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন যে গবেষণা কি? সেই সাথে আমি এই গবেষণা বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত করে বিশেষভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছি আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন: সবুজ রসায়ন কি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top