খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে? খাদ্য সংরক্ষণ কত ভাবে করা যায়, এর উপকার

খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে: যে কোনো ধরনের খাদ্যের গুণাগুণ, উপাদান ও পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রেখে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে তা ভবিষ্যতে ব্যবহার করার মত অবস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে। এক কথায় বলতে গেলে, খাদ্যে উপস্থিত সকল গুনাগুন ও পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রেখে তা ভবিষ্যতে ব্যবহার করার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তাই খাদ্য সংরক্ষণ।

আমরা নানা কারণে খাদ্য সংগ্রহ করে থাকি এবং সংগ্রহকৃত খাদ্য ভক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করে থাকি শারীরিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য। তবে অনেক ক্ষেত্রে আমাদেরকে ভবিষ্যতের দিকে চিন্তা করে খাদ্য সংরক্ষণ করতে হয় এবং এর পুষ্টি গুণাগুণ বজায় রাখতে হয়।

আর খাদ্যকে সংরক্ষণ বা সুরক্ষিত রাখার প্রক্রিয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে, যেখানে খাদ্যের পুষ্টি গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।

খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে
খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে?

তবে আমাদের মাঝে অনেকেই ছিলেন যারা খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে এ বিষয়টি সম্পর্কে মোটেও অবগত ছিল না।

খাদ্য সংরক্ষণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন একটি খাদকে যেকোনো বস্তু হতে সুরক্ষা প্রদান করা হয়। শুধুমাত্র সুরক্ষা প্রদান নয় বরং সেই সাথে পুষ্টিগুণ আগুন বজায় রাখার দিকে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করা হয় খাদ্য সংরক্ষণে।

বর্তমানে বিশেষ করে খাদ্যের অপচয় রোধ করার ক্ষেত্রে খাদ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় এবং অবশ্যই এটি সুবিধাজনক। খাদ্য সংরক্ষণ করাতে বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় এবং এগুলো অনেক বেশি কার্যকর খাদ্যের পুষ্টি গুনাগুন ধরে রাখার জন্য।

খাদ্য সংরক্ষণ কত ভাবে করা যায় এবং এর পদ্ধতি

আমরা তো খাদ্য সংরক্ষণ সম্পর্কে জানলাম তবে এক খাদ্য সংরক্ষণ যে আমরা শুধুমাত্র একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি এমন না।

আমরা খাদ্য সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করতে ও পুষ্টি গুনাগুন অক্ষুন্ন রাখতে।

বিভিন্নভাবে আমরা খাদ্যকে সংরক্ষণ করে রাখতে পারি প্রবর্তিতে তা গ্রহণ করার জন্য। প্রধানত আমরা ছয়টি পদ্ধতি অবলম্বন করার মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। খাদ্য সংরক্ষণের এই ছয়টি পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ: চাল, ডাল এবং গম ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়।
  • ফ্রিজ ব্যবহারে: মাছ, মাংস, সবজি ও ফল ইত্যাদি ফ্রিজ ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা যায়।
  • হিমাগার ব্যবহারে: শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি আমরা হিমাগার ব্যবহার করা সংরক্ষণ করতে পারি।
  • বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহারে: জ্যাম জেলি আচার ইত্যাদি আমরা বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করা সংরক্ষণ করি।
  • লবণ দিয়ে বা বরফে: আমরা মাছ সংরক্ষণ করার জন্য বরফ বা লবণের প্রলেপ ব্যবহার করে থাকি।
  • চিনি, সিরকা বা তেল দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ: জলপাই, বরই এবং আম আমরা চিনি, সিরিকা বা তেল দিয়ে সংরক্ষণ করেতে পারি।

আপনি যদি খাদ্য সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে আপনি খাদ্যের উপাদান অনুযায়ী উপরের প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সংরক্ষণ করতে পারেন।

বর্তমানে যে কেউ খাদ্য সংরক্ষণ করতে চায় এবং অপচয় রোধ করে ভবিষ্যতে খাদ্য ব্যবহার করে চাহিদা পূরণ করতে চায়।

এই সকল চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে খাদ্য সংরক্ষণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় ওঠে এবং পুষ্টি চাহিদা নিবারণ হয় যেকোন সময়। আপনিও যদি খাদ্য সংরক্ষণ করার বিষয়ে অনেক বেশি উদ্যোগী হয়ে থাকেন তাহলে উপরোক্ত প্রক্রিয়া গুলো অবলম্বন করতে পারেন।

খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা

খাদ্য সংরক্ষণ আমরা কেন করে এ বিষয়টি নিয়ে হয়তোবা আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি বা আমাদের আগে থেকে জানা ছিল। তবে এই খাদ্য সংরক্ষণের কিছু কিছু গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যা আমাদের জানা দরকার।

কেননা এ প্রয়োজনীয়তা গুলো জানার মাধ্যমে আমরা খাদ্য সংরক্ষণ করতে চাইবো এবং অপচয় রোধ করতে পারব খাদ্যের।

আর যখন আমরা খাদ্য সংরক্ষণ করে খাদ্যের অপচয় রোধ করতে পারব তখন অবশ্যই চাহিদা পূরণ হবে খাদ্যের যা মন্দ নয়।

উল্লেখযোগ্য কিছু খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • খাদ্যকে দ্রুত পচন হতে রক্ষা করা যায় এবং জীবাণুমুক্ত করা যায়।
  • মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফল এবং দুগ্ধজাত খাবার সমূহকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
  • যেকোনো ধরনের মৌসুমের খাবার প্রায় সারা বছর পাওয়া সম্ভব হয়।
  • দূরবর্তী যে কোন স্থানে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ করতে এবং পচনহীন ভাবে তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
  • বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় খাদ্যের অভাব দেখা দিলে সংরক্ষণকৃত খাদ্য গ্রহণ করা যায়।

আপনি যদি খাদ্য সংরক্ষণ করতে চান তাহলে অবশ্যই এটি আপনার জন্য অনেক ভালো হবে এবং আপনি উপরে থাকা উপকারগুলো পাবেন। হয়তোবা আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা খাদ্য সংরক্ষণ নিয়ে অনেক বেশি অনেক উদ্যোগী না এবং চিন্তা ভাবনা করে না।

আপনি যদি চান তাহলে তাদের মাঝে এই পোস্টটি শেয়ার করে দিতে পারেন এবং তাদেরকে খাদ্য সংরক্ষণ নিয়ে অনুপ্রেরণা দিতে পারেন।

খাদ্য সংরক্ষণ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের অপচয় রোধ হয় ও যেকোন সময় খাদ্য চাহিদা পূরণ করা যায়।

আরও পড়ুন: রোগ কাকে বলে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top