ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে? ক্লোরোপ্লাস্ট এর কাজ এবং গুরুত্ব

ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে: উদ্ভিদের মধ্যে উপস্থিত সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। আমরা এই ক্লোরোপ্লাস্ট শুধুমাত্র উদ্ভিদ কোষের মধ্যেই প্রচলিতভাবে দেখতে পায় এবং এটি উদ্ভিদ কোষের অন্যতম একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

এই ক্লোরোপ্লাস্ট জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন,ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।

ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে
ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে?

এই ক্লোরোপ্লাস্ট ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা অধিক মাত্রায় ধারণ করে থাকে যার কারণে একে সবুজ রঙের দেখায়।

এই ক্লোরোপ্লাস্ট এর মাঝে ক্লোরোফিল ছাড়াও অন্যান্য বর্ণ কণিকা কিছু কিছু পরিমাণ যুক্ত থাকে। সর্বপ্রথম ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী শিম্পার উদ্ভিদ কোষের মধ্যে সবুজ বর্ণের এই প্লাস্টিডকে লক্ষ্য করেন। এরপর তিনি এই সবুজ বর্ণের প্লাস্টিকের নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট।

ক্লোরোপ্লাস্ট এর কাজ

ক্লোরোপ্লাস্ট এর প্রধান কাজ হলো খাদ্য সংশ্লেষণে সাহায্য করা অর্থাৎ খাদ্য প্রস্তুতকরণের সময় সাহায্য করা। আর এই অঙ্গাণু খাদ্য সংশ্লেষণে সাহায্য করে যার কারণে একে কোষের রান্নাঘর বা শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা বলে।

যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Factory of synthesis of sugar. এই প্লাস্টিক একটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু। নিচে ক্লোরোপ্লাস্ট এর কাজ সমূহ উল্লেখ করা হলো:

  • ক্লোরোপ্লাস্ট এর প্রধান কাজ হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট এর প্রয়োজন অনুযায়ী, নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন তৈরি করা।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট সৌরশক্তিকে জৈবিক শক্তিতে রূপান্তর করে এবং বায়ুর মধ্যে উপস্থিত Co2 কে RuBP এর সাথে যুক্ত করে।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট ফসফরাইলের পদ্ধতি অর্থাৎ সূর্যালোকের সাহায্যে ADP কে ATP তে রূপান্তর করতে পারে।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট ফটোরেসপিরেশন ঘটাতে অর্থাৎ সালোক-শ্বসন ঘটাতে সাহায্য করে।
  • এই ক্লোরোপ্লাস্ট সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্স করতে সাহায্য করে।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট বংশানুক্রমে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের সক্রিয়তা ধারণ করে রাখে।

এগুলো ছিল ক্লোরোপ্লাস্ট এর কিছু কাজ এবং এই কাজগুলো দ্বারা এটি স্পষ্ট, উদ্ভিদ কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ।

তাই চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক যে, উদ্ভিদ কোষের মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্ট কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ক্লোরোপ্লাস্ট এর গুরুত্ব

উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই ক্লোরোপ্লাস্ট এর সাহায্যে উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।

যদি উদ্ভিদের মাঝে ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকতো তাহলে উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারত না।

ক্লোরোপ্লাস্ট এর গ্রানা (Grana) অংশ সূর্যালোকে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। আর এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (Stroma) অবস্থিত উৎসেচকের সমষ্টি এবং বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও কোষের মধ্যকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে থাকে।

ক্লোরোপ্লাস্ট সূর্যালোকের সাহায্যে ADP কে ATP তে রূপান্তর করতে পারে। অর্থাৎ শক্তি তৈরি করতে পারে।

যদি ক্লোরোপ্লাস্টে না থাকতো তাহলে এ সকল কাজ উদ্ভিদের মধ্যে সংঘটিত হতে পারত না।

আর উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের জন্য উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য এর সকল বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে জরুরী।

যদি এসব উদ্ভিদের মধ্যে না হয় তাহলে উদ্ভিদ মারা যাবে। তাহলে আমরা এখান থেকে খুবই স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছি যে উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট এর গুরুত্ব কত বেশি।

আরও পড়ুন: গলজি বস্তু কাকে বলে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *