কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি? কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা, অসুবিধা ও ব্যবহার 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি: মানুষের চিন্তা ভাবনা অথবা বুদ্ধিমত্তার পদ্ধতিকে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমতাকে ইংরেজিতে বলা হয় Artificial Intelligence এবং সংক্ষেপে এটিকে বলা হয় থাকে AI (এ আই)।

আমরা মানুষ যেভাবে যে কোন বিষয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে এ যে কোন সমাধান বের করতে পারি কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা বা জ্ঞান অর্জন করতে পারি, নতুন নতুন বিষয় বা নতুন নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারি, আমাদের চিন্তা শক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা অনেক কাজ নিজে থেকেই নিজের মেধা করতে পারি যার বর্ণনা অতুলনীয়।

আর বিজ্ঞানীগণ এটাই চেষ্টা করতেছেন যে কিভাবে একটি কম্পিউটারকে বা একটি রোবটের দ্বারা এই কাজসমূহ সহজে সম্পাদন করা যায় যাতে।

যে কম্পিউটার সব বুঝতে পারে, জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং আবিষ্কার করে কম্পিউটারও যাতে নিজের মেধা শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি?

আর তাদের যে এই চেষ্টা বিফলে গেছে তা কিন্তু নয় এই চেষ্টায় তারা অনেকাংশে এগিয়ে গেছে এবং অনেক কিছু তারা সুন্দরভাবে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এখন বর্তমানে এমন কিছু জিনিস বা কম্পিউটার উপাদান সমূহ আবিষ্কার করতেছে যার পা মাধ্যমে কম্পিউটার নিজেই নিজে নিজে নিজেই অনেক কিছু বুঝতে পারতেছে।

তবে তারা যে এই কাজে সম্পূর্ণভাবে সফল হয়ে গেছে এবং দক্ষ হয়ে গেছে তা কিন্তু নয় বরং তারা আবিষ্কারের চেষ্টার মাধ্যমে অনেক কিছুই এখন করতে পারতেছে অনেক কিছু বিষয়ের রোবটকে বুঝাতে পারতেছে অনেক কিছু বিষয় কম্পিউটার কে বুঝাতে পারতেছে তবে এর রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা এবং কিছু ত্রুটি।

আর এগুলোকে তারা সমাধান করার চেষ্টা করতেছে এবং চেষ্টা করতেছে যাতে করে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমতাকে কাজে লাগিয়ে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজ রোবটের দ্বারা এবং কম্পিউটারের দ্বারা সহজেই সম্পাদন করে ফেলতে পারে এবং সেখানে মানুষকে জড়াতে না হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি এই প্রশ্নটির উত্তর পাওয়ার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রযুক্তি হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ যেভাবে মানুষ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং চিন্তাভাবনা বা যে কোন কিছু সমাধান করতে পারে। যাতে করে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব দ্রুত খুব সহজে যে কোন কাজ সম্পন্ন করা যায়।

এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করার কারণে মানুষ অনেক দিক থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা এবং অনেক প্রকার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

অনেক বড় বড় ভারী এবং কঠিন কাজ সমূহ রোবট তাদের নিজস্ব বুদ্ধি বা নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে করবে।

নিচে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা সমূহ উল্লেখ করা হলো:

  • মানুষ যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঠিকভাবে প্রোগ্রাম করতে পারে তাহলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রযুক্তি তার কাজে কখনো ভুল করবে না।
  • এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব সময় সঠিক তথ্য প্রদান করে, ভুল তথ্য প্রদান করেনা যদি তাকে সঠিক তথ্য দিতে পারেন তাহলে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমতা খুব দ্রুত কাজ সম্পাদন করতে পারে বা খুব দ্রুত কাজ সম্পাদন করে এবং কোন প্রকার বিশ্রাম গ্রহণ করেনা।
  • নির্ভুল কাজ এবং দ্রুত গতিতে কাজ করার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা একটি আমুল পরিবর্তন এবং একটি বড় মানের উন্নয়ন।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জটিল এবং বিপদজনক কাজ করতে পারে যেখানে মানুষের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব বা কাজ করা খুবই কঠিন।
  • এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ করাতে কোন প্রকার সময় নেয় না, ২৪ ঘন্টা কাজ করে কোন বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রযুক্তি একটি কাজ বারবার করতে পারে কিন্তু মানুষ একটি কাজ বারবার করলে তার বিরক্তি চলে আসে। 

আসলে জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমতার এত প্রভাব এবং এত অসুবিধা সমূহ আসতে চলছে যেগুলো বলে শেষ করা যাবে না।

এখানে আমি যে সকল উল্লেখ করেছি তার চেয়েও বহুগুণ বা লক্ষ গুণ বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা রয়েছে আমাদের জন্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অসুবিধা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেমন অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে যেগুলো আমাদের জীবনের জন্য জরুরী ঠিক তেমনিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিছু অসুবিধা রয়েছে যেগুলো আমাদের জীবনের জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে। যেগুলো আমাদের জন্য কিংবা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে।

আমরা জানি কোন জিনিসের সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই রয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ব্যতিক্রম নয় এর রয়েছে সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধা।

যেগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি যাতে আমরা সেই অসুবিধা থেকে বেঁচে থাকতে পারি। নিচে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অসুবিধা সমূহ উল্লেখ করা হলো:

  • বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করাটা অত্যন্ত ব্যবহার কিন্তু এটি যদি একবার তৈরি হয় তবে অনেক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। 
  • এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানকে কমিয়ে দেয়।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে অলসতার দিকে নিয়ে যায় স্বয়ংক্রিয় কাজ করতে অনিহা নিয়ে আসে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যদি খারাপ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়ে থাকে তাহলে সেটি মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা সমূহ মানুষকে গড়ে ধরে অলস এবং তাদের মানুষের চিন্তা ভাবনা করে তোলে অর্থহীন।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমতা নিজে নিজে উন্নত হয় যার কারণে সেটি মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে যেটি মানুষের জন্য খারাপ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

এগুলো ছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরো বেশ কিছু খারাপ দিক রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হতে পারে তাই আমাদেরকে এ বিষয়ে সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত। আর এর সকল সমস্যা প্রতিরোধে এবং প্রতিকার যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং সতর্কভাবে এটি ব্যবহার করা উচিত। 

এই পোস্টটির মাধ্যমে আমি আপনাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত থাকি এবং এর সুফল ও কুফল সম্পর্কে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দিয়েছি।

যেটি আপনার জন্য জানা থাকা জরুরি এবং এর সুফল ও কুফল অনুযায়ী কাজ করা বা ব্যবহার করা জরুরী।

আরও পড়ুন: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কাকে বলে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top