কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ?  কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে করণীয়

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

ম্যালেরিয়া হলে রোগীদের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে ম্যালেরিয়ার আরো লক্ষণ হলো শরীর বেশি ঘামায়, মাথাব্যথা, পেট ব্যথা, বমি ইত্যাদি হয়।

ফুসফুসের ইনফেকশন বা নিউমোনিয়া হলে রোগীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। 

কিডনির ইনফেকশনের কারণে রোগীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। কিডনি ইনফেকশনের ক্ষেত্রে আমরা যদি হাত দিয়ে পিছনে চেপে ধরি তাহলে ব্যথা অনুভূত হবে।

পিত্তথলিতে ইনফেকশনের কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এরা আরো লক্ষণ হলো জন্ডিস এবং পেটের ডান দিকে ব্যথা।

অনেক সময় পিত্তথলিতে পাথর জমা হয় যার কারনে সেখানেই ইনফেকশন হয় এবং রোগের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।

পোস্টেড গ্ল্যান্ডের ইনফেকশনের কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। মহিলাদের পোস্টেড গ্ল্যান্ড থাকে না কিন্তু পুরুষদের পোস্টেড গ্ল্যান্ড থাকে আর এই পোস্টেড গ্ল্যান্ড যদি কোন কারনে ইনফেকশন হয় তাহলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ
কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ

আমাদের শরীরের মধ্যে অনেক প্রকার জয়েন্ট বা গিরা থাকে যেগুলোকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় অ্যাথলেটিক্স।

এই সকাল অ্যাথলেটিক্স এর মধ্যে যদি ইনফেকশন হয় তাহলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

মানুষের শরীরের কোন অংশে যদি পুঁচ জমে থাকে তাহলে তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে কারো যদি মস্তিষ্কে পুঁচ জমা হয় যাকে মেডিকেলের ভাষা বলা হয় সেরিব্রাল এপসেস তাহলে তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

কারো যদি ফুসফুসে পুঁচ জমা হয় যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় লাঞ্চ এপসেস তাহলেও তার কাপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

তাছাড়া শিশুদের অথবা বড়দের যদি খিঁচুনি জাতীয় রোগ থাকে তাহলে তাদের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

এই সবগুলোই হচ্ছে মারাত্মক তাই আপনার যদি আপনি দিয়ে জ্বর আসে দ্রুত ভাবের করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এগুলো পড়ার পর হতাশ হওয়ার কিছুই নেই এসকল রোগের প্রতিটিরই চিকিৎসা রয়েছে।

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে করণীয়? 

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে প্রথমে পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে দিতে হবে অথবা মাথায় পানির ঢালতে হবে।

আর সেই সাথে ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো শরীর মাছেহ করে দিতে হবে এক্ষেত্রে কাপড় ভিজিয়ে একটু চিপে নিতে হবে।

যে পানি আমরা ব্যবহার করব সেই পানি অবশ্যই একদম ঠান্ডা হলে চলবে না সেই ব্যবহারিত পানি যাতে একটু হালকা গরম হয়। কিন্তু সেই পানিকে আপনারা খুব বেশি গরম করবেন না আবার খুব বেশি ঠান্ডা পানি দিয়ে এসব করবেন না।

মাথায় পানি ঢালার সময়ে বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হবে যেন কানের মধ্যে পানি চলে না যায়।

আর যদি অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে কাঁপুনি এসে থাকে তাহলে তাকে সুন্দরভাবে গরম কাপড় পরাবেন।

এরপর উপরে উল্লেখিত এ সকল রোগের কারণেই মূলত আপনি দিয়ে জ্বর এসে থাকে এবং এগুলো অনেক মারাত্মক রোগ।

তাই যত দ্রুতভাবে সম্ভব আপনারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন এবং ডাক্তারের কাছ থেকে সুচিকিৎসা গ্রহণ করবেন।

জোর বা ফিভার বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে গিয়ে পরামর্শ নিবেন এমনি হাতুড়ি ডাক্তারকে দেখাবেন না। কেননা এভাবে টাকা বাঁচাতে গিয়ে আপনার শরীরের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে আর এই রোগ গুলো অনেক মারাত্মক।

তাই এই সকল মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই অবশ্যই দ্রুত ভালো এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

বাসায় বসে নিজে নিজেই নাপা, প্যারাসিটামল, নাপা এক্সট্রা এসকল ঔষধ ইচ্ছা করে খাবেন না।

কেননা আপনি যদি এ সকল ঔষধ খান আর আপনার যদি কিডনির সমস্যা বা অন্য কোন সমস্যার কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে থাকে তাহলে এটি আপনার জন্য খুবই মারাত্মক বলে প্রমাণিত হবে তাই নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না।

আশা করি আপনি উপরে পড়ে বুঝতে পেরেছেন যে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ গুলো কি কি? কি কি ভয়াবহ রোগের কারণে আপনার কাপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে?

তাই আপনি আপনার চিকিৎসা নিজে করা থেকে বিরত থাকুন বরং অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। আর তাদের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী নিজের চিকিৎসা করুন এবং নিজেকে সুস্থ করে তুলুন।

খিচুনির কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে করণীয়?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের খিচুনির কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে এবং ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের এটি বেশি হয়।

কখনো কখনো এই রোগ তার বংশে থাকার কারণে অর্থাৎ বাবা-মা বা অন্য কারো থাকার কারণে হয়ে থাকে।

এই রোগের লক্ষণ হলো প্রথমে চোখ উল্টিয়ে দেয় তারপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে শুরু করে। আপনারা জানেন যে খিঁচুনি আসলে বাচ্চারা কিরকম হয় বিভিন্ন বাঁচার আচরণ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে আমরা জানবো খিচুনি আসলে কি করব।

আপনার শিশুর খিচুনি আসলে তাকে পরিষ্কার সমান ফ্লোর কিংবা অন্য কিছুর উপর বাম কাধ করে শুয়ে দিবেন।

মুখ বা নাক দিয়ে লালা বা ময়লা আসেলে সেগুলো পরিষ্কার করে নিবেন এবং জিহ্বা কামড়ে ধরে থাকলে তা খুলে দিবেন।

এই খিচুনি সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত থাকে সর্বোচ্চ এটি ১৫ মিনিট পর্যন্ত থাকে। এই সময় তার সামনে চিল্লাচিল্লি মাথায় পানি ঢালা কিংবা অন্য কোন রকম কার্যকলাপ না করা উচিত।

এরপর খিচুনি থেমে যাওয়ার পর একজন ভালো অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

তখন আপনাকে ঢাকায় কিছু পরীক্ষা করতে বলে সেই সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন।

এরপর ঢাকা আপনাকে বলবে পরবর্তীতে ঝড় আসলে আবার এরকম হতে পারে তাই এ বিষয়ে একটু আপনারা সাবধান থাকবেন। আর সেই সাথে তারা আপনাদের ঔষধ হিসেবে না পাওয়ার সিরাপ বা প্যারাসিটামলের সিরাপ দিবেন।

প্রতি আট কেজি ওজনের শিশুর জন্য এক চামচ পরিমাণ এই ঔষধ খাওয়াতে হয় এর পরিমাণ ডাক্তার আপনাদের বলে দিবে।

আর সেই সাথে আপনাকে একটি ট্যাবলেট দিবে যে টেবলেট টির নাম আছে ট্যাবলেট ডাইজিবাম।

এই ট্যাবলেটটি আপনার বাচ্চার খিচুনির বিরুদ্ধে কাজ করবে আমরা জানি যে এটি একটি ঘুমের ঔষধ। কিন্তু এটি খিচুনির জন্য কাজ করে থাকে আর এই ট্যাবলেটটি আপনাকে ৩ দিন খাওয়াতে হবে, যদি তার জোর না থাকে তবুও তিন দিন।

প্রতি ১০ কেজি ওজনের বাচ্চার জন্য এই ট্যাবলেটটি অর্ধেক করে দেওয়া হয়।

শেষ কথা:

আশা করি আমার লেখা এই পোস্টে আপনি সম্পূর্ণভাবে পড়েছেন এবং এ থেকে বুঝতে পেরেছেন যে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ। আপনি যদি এ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারেন তাহলে আপনার উচিত হবে কারো যদি আপনি দিয়ে জোর আসে তাহলে তাকে এ বিষয়ে সম্পর্কে জানানো।

কেননা এমন এক সময় এ বিষয়টি অনেক মারাত্মক হয়ে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই যখনই দেখবেন যে কাফনি দিয়ে জ্বর আসতেছে তৎক্ষণাৎ একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

আর ডাক্তারের কাছ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার সঠিক সমস্যা নির্ণয় করে ঔষধ সেবন করবেন।

ইনশাআল্লাহ আপনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন এবং বাড়িতে কোন প্রকার উল্টাপাল্টা ওষুধ সেবন করবেন না।

আরও পড়ুন: জ্বর হলে কি খাওয়া উচিত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *