ইলেকট্রন কাকে বলে? ইলেকট্রনের আবিষ্কারক, চার্জ, ভর, অবস্থান ও প্রতীক

ইলেকট্রন কাকে বলে: পরমাণুতে উপস্থিত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুর মূল কণিকা ইলেকট্রন বলে। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে এবং এ প্রক্রিয়া অবিরাম ভাবে চলতে থাকে। পরমাণুর তিনটি মূল কণিকার মধ্যে ইলেকট্রন হলো অন্যতম, যার আধান বা চার্জ হচ্ছে ঋণাত্মক বা নেগেটিভ।

পরমাণু গঠনে রয়েছে তিনটি মূল কণিকা এবং এ তিনটি মূল কণিকার মধ্যে ইলেকট্রন হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কণিকা পরমাণুর। সম্পূর্ণরূপে ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট একটি মূল কণিকার নাম হলো ইলেকট্রন এবং এটি নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে থাকে অরবিটালে।

ইলেকট্রন কাকে বলে
ইলেকট্রন কাকে বলে?

এই সকল ইলেকট্রন গুলো পরমাণুতে শক্তিস্তর ও উপশক্তিস্তরের মধ্যে ভ্রমণ করতে থাকে এবং সেই সাথে গতিশীল অবস্থায় বিরাজ করে। পরমাণুতে উপস্থিত ইলেকট্রন সমূহ সর্বদা গতিশীল থাকার কারণে এর নির্দিষ্ট কোন অবস্থান সমাপ্ত করা যায় না বরং সনাক্ত করার পূর্বেই ইলেকট্রন ঐ স্থান ত্যাগ করে।

আমরা তো ইলেকট্রন সম্পর্কে জানলাম কিন্তু এই ইলেকট্রনের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে বৈশিষ্ট্য গুলো দ্বারা ইলেকট্রন শনাক্ত করা যায়।

আমাদেরকে ইলেকট্রনের এ সকল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং এখানে আমরা উল্লেখ করব ইলেকট্রনের বৈশিষ্ট্য।

ইলেকট্রনের বৈশিষ্ট্য

পরমাণু তিনটি মূল কণিকা দিয়ে গঠিত এবং এ তিনটি মূল কণিকার ওই নির্দিষ্ট কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর যেহেতু পরমাণুর একটি মূল কণিকা হচ্ছে ইলেকট্রন তাই এটি নিশ্চিত যে ইলেকট্রনের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আমরা এখানে জানতে পারবো।

নিচে ইলেকট্রনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সমূহ বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হলো:

  • এটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুর একটি মূল কণিকা, যার আধান বা চার্জ হচ্ছে নেগেটিভ।
  • পরমাণুতে উপস্থিত সম্পূর্ণ ঋণাত্মক চার্জের অধিকারী হচ্ছে এই মূল কণিকা।
  • ইলেকট্রন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রোটন সংখ্যার মান নির্ণয় করা সম্ভব।
  • পরমাণুতে উপস্থিত ইলেকট্রন সমূহ বৃত্তাকার ও উপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
  • পরমাণুর মূল গঠন হচ্ছে ইলেকট্রন বিন্যাস এবং এটি ইলেকট্রনের মান এটি দ্বারা প্রকাশ পায়।

এগুলো হলো ইলেকট্রনের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এর বৈশিষ্ট্য গুলো দ্বারা আমরা ইলেকট্রন সংখ্যার উপর আর কি কি ভিত্তি করে আছে তা বুঝতে পারি। কে সর্বপ্রথম ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছিলেন বা তিনার নাম কি চলুন এ বিষয়ে সম্পর্কে এবার জেনে নেই ইলেকট্রনের।

ইলেকট্রনের আবিষ্কারক কে?

ইলেকট্রনের আবিষ্কারক হলেন স্যার ডো. জে. থমসন এবং ক্যাথোড রাশির ওপর বিক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এই কণিকা আবিষ্কার করেন।

ইনি হলেন ইলেকট্রনের আবিষ্কারক যিনি সর্বপ্রথম ইলেকট্রন শনাক্ত করেছেন এবং সেই সাথে ইলেকট্রনের ধর্ম সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়েছেন। যদিও বা ইলেকট্রন সনাক্ত করতে বা আবিষ্কার করতে থমসন ভূমিকা পালন করেছে কিন্তু এই ইলেকট্রন নামকরণটি অন্য একজন করেছেন।

সময় অনুযায়ী আমরা ইলেকট্রন নামকরণ কে করেছেন এটি জানবো তবে এখন আমাদের প্রথমে ইলেকট্রনের আধান সম্পর্কে জানতে হবে। অর্থাৎ ইলেকট্রনের আধান কত এ বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে যার উত্তর আমরা পরীক্ষা দিতে পারব।

ইলেকট্রনের আধান বা চার্জ কত?

ইলেকট্রনের আধান বা চার্জ হচ্ছে -1.6X10-19 (কুলম্ব), অর্থাৎ এর চার্জ নেগেটিভ।

এটি হচ্ছে ইলেকট্রনের আধান এবং অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে ইলেক্ট্রনের আধার লেখার সময় আমি যেভাবে প্রথমে নেগেটিভ চিহ্ন ব্যবহার করেছি। ঠিক অনুরূপভাবে আপনিও যেন নেগেটিভ ব্যবহার করেন কেননা এই আধানের পরিমাণ এবং প্রোটনের আধান প্রদান সমান কিন্তু গাণিতিক চিহ্ন ভিন্ন।

পরমাণুতে উপস্থিত প্রত্যেকটি ইলেকট্রনের নির্দিষ্ট ভর রয়েছে এবং এ ভর এর উত্তর আমাদেরকে পরীক্ষা দিতে হবে যে কোন সময়।

তাই চলুন এবার আমরা ইলেকট্রনের ভর সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে যা আমি নিচে উল্লেখ করব আপনাকে জানানোর জন্য। 

ইলেকট্রনের ভর কত?

ইলেকট্রনের ভর হলো 9.1X10-31 kg কিংবা 9.1X10-28 g.

এগুলো হচ্ছে ইলেকট্রনের ভর এবং আপনি এখন প্রশ্ন করতে পারেন ইলেকট্রনের ভর একটি হবে এখানে দুইটি ভর কেন উল্লেখ করা হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন ইলেকট্রনের দুটি ভরের একক ভিন্ন রয়েছে অর্থাৎ একটি গ্রাম অন্যটি কেজি এককে উল্লেখ করেছে তাই মান ভিন্ন হয়েছে।

অর্থাৎ ইহার দ্বারা বোঝা যায়, উপরোক্ত ইলেকট্রনের দুটি ভর একই মানের কিন্তু শুধুমাত্র একক ভিন্ন হওয়ার জন্য সংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে।

আপনি চাইলে ইলেকট্রনের ভর যেকোনো একটি এককে লিখিতে পারেন এবং এমসিকিউ অনুযায়ী আপনাকে গ্রাম অথবা কেজি এককে দাগাতে হবে।

ইলেকট্রনের অবস্থান কোথায়?

ইলেকট্রনের অবস্থান হচ্ছে অরবিটাল বা স্থির কক্ষপথে বা উপশক্তিস্তর, যা নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত।

এটি হচ্ছে ইলেকট্রনের অবস্থান যে অবস্থানে ইলেকট্রনসহ অবস্থান করে এবং সেই সাথে পরিভ্রমণ করে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘিরে।

আর অবশ্যই আমাদেরকে ইলেকট্রনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে হবে কেননা অবস্থান না জানার ফলে আমরা করতে পারবো না।

তবে ইলেকট্রন কে সূচিত করার জন্য আমরা একটি প্রতীক ব্যবহার করে থাকি যার দ্বারা আমরা লেখার সময় ইলেকট্রন বোঝাতে পারি। চলুন তাহলে আমাদেরকে এবার ইলেকট্রনের এই পথিক সম্পর্কে জানতে হবে যা দ্বারা আমরা ইলেকট্রনকে সূচিত করতে পারি।

ইলেকট্রনের প্রতীক কি?

ইলেকট্রনের প্রতীক হলো e (অবশ্যই ছোট হাতের হতে হবে), ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় একে e দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

এটি হচ্ছে ইলেকট্রনের প্রতীক কি এর সঠিক উত্তর এবং ইলেকট্রন কাকে বলে বিষয়ে জানার পর আমাদেরকে প্রতীক জানতে হতো ইলেকট্রনের।

কেননা লেখার সময় বিভিন্ন কারণে আমাদের ইলেকট্রনের প্রতীক ব্যবহার করে এর ইলেকট্রন বিন্যাস বোঝাতে হতে পারে।

আমরা পূর্বে বলেছি যে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছে একজন তবে নামকরণ করেছে আরেক জন এবং চলুন এখন কে নামকরণ করেছেন তা জানি। অর্থাৎ ইলেকট্রনের নামকরণ অন্য একজন বিজ্ঞানী করেছিলেন এবং ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছিলেন অন্য একজন বিকেলে তাই আমাদেরকে এখন পৃথকভাবে নামকরণ সম্পর্কে জানতে হবে।

ইলেকট্রনের নামকরণ কোন বিজ্ঞানী করেছিলেন?

ইলেকট্রনের নামকরণ করেন বিজ্ঞানী স্ট্রোনী তবে, ইলেকট্রনের আবিষ্কারক হলেন ডো. জে. থমসন।

ইনি হলেন ইলেকট্রনের নামকারক কিন্তু ইলেকট্রন ইনি আবিষ্কার করেননি বরং প্রথম ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানী থমসন।

কিন্তু বেকারথন সেই সময় ইলেকট্রনের সঠিক নামকরণ না করেননি এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞানী স্ট্রোনী ইলেকট্রনের সঠিক নামকরণ করেন। 

ইলেকট্রন কাকে বলে আশা করি এ বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ তথ্য আপনি আমাদের পোস্টটি থেকে সংগ্রহ করতে পেরেছেন, ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন: অরবিটাল কাকে বলে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top