আখিরাত কাকে বলে? আখিরাতের সংজ্ঞা, পরিচয় এবং ধাপ সমূহ

আখিরাত কাকে বলে: আখিরাত অর্থ পরকাল, অর্থাৎ মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। মানব জীবন চক্রকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে একটি হচ্ছে ইহকাল এবং অন্যটি পরকাল। দুনিয়ার  এই জীবনে আমরা যা যা উপভোগ করতে পারতেছি এবং দেখতে পারতেছি এটি হচ্ছে ইহকালীন জীবন।

মৃত্যুর পরে মানুষের যে নতুন জীবন শুরু হবে সে নতুন জীবনের নাম হচ্ছে পরকাল বা আখিরাত এবং এটি দুনিয়ার ফস্বরূপ।

স্বল্প সময়ের এই জীবনের নাম হচ্ছে ইহকাল এবং অনন্তকালের সেই মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের নাম হচ্ছে আখিরাত যা শেষ হবে না।

আখিরাত কাকে বলে
আখিরাত কাকে বলে?

আখিরাতের জীবনের শুরু হবে মৃত্যুর পর থেকে এবং এর শেষ কখনোই হবে না অর্থাৎ আখিরাতের জীবনের কোন শেষ নেই।

মানুষের অনন্তকাল চিরস্থায়ী আবাস হচ্ছে আখিরাতের জীবন, আখিরাতের জীবনে প্রথমে মানুষের দুনিয়াতে করে আসা কৃতকর্মের হিসাব নেওয়া হবে।

অতঃপর বান্দার ভালো কাজের পুরষ্কার হিসেবে চির শান্তির স্থান জান্নাত এবং মন্দ কাজের বিনিময় চিরশাস্তির স্থান জাহান্নাম প্রদান করা হবে। আর এই দুই শান্তি এবং শাস্তির জীবনটি হবে চিরস্থায়ী যা নিজের কৃতকর্ম দ্বারা লাভ করা যাবে।

আখিরাতের স্তর কয়টি ও কি কি

মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত তবে, মৃত্যুর পরবর্তী এই জীবনকে অর্থাৎ আখিরাতে জীবনকে কয়েকটি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে।

এই ধাপগুলোর মধ্যে বান্দাকে যাচাই-বাছাই করা হবে যে কোন বান্দা জান্নাতে যাওয়ার জন্য এবং কোন বান্দা জাহান্নামে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত। 

মৃত্যুর পরবর্তী জীবন অর্থাৎ আখিরাতের জীবনকে প্রধানত ৯টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। আখিরাতের ৯টি স্তর হলো: মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, মিজান, পুলসিরাত, শাফায়াত, জান্নাত এবং জাহান্নাম।

১.) মৃত্যু: আখিরাতের জীবনের শুরুটা হয় মৃত্যু দ্বারা অর্থাৎ আখিরাতের জীবনের প্রথম স্তর হচ্ছে মৃত্যু। মানবজাতির জন্য এবং অন্যান্য প্রত্যেকটি জীবের জন্য মৃত্যু হচ্ছে অবধারিত এবং এর স্বাদ প্রত্যেকটি জীবকে গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু মানুষকে তার কৃতকর্মের জন্য হিসাব নেওয়া হয় তাই তার আখিরাতের জীবন শুরু হয় মৃত্যু দ্বারা।

২.) কবর: আখিরাতের দ্বিতীয় স্তর হলো কবর, মৃত্যুর পর প্রত্যেকটি মানুষকে কবরে দাফন করে দেওয়া হয়। কবরের জীবনে বান্দাকে তিনটি প্রশ্ন করা হয় এবং যে এই তিন প্রশ্নের জবাব দিরে সে কবরের জীবন হতে রেহাই পায়। ধারণা করা হয় কেউ যদি এই কবরের জীবন হাতে রেহাই পায়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো তার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।

৩.) কিয়ামত:

আখিরাতের জীবনের মধ্যবর্তী স্থান তার মধ্যে কিয়ামতের ঈশ্বরটি অন্যতম, কিয়ামতের দিন পুরো পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে এবং পুনরায় এই পৃথিবীটাকে সমতল ভূমি হিসেবে তৈরি করা হবে। এবং এই দিন প্রত্যেকটি মৃত ব্যক্তিকে পুনরায় জীবিত করা হবে তাদের পরিপূর্ণ হিসাব নেওয়ার জন্য।

৪.) হাশর: কিয়ামত হওয়ার পর হাশর অনুষ্ঠিত হবে, এই মাঠে মানুষ দলে দলে উপস্থিত হবে এবং কারো দিকে তাকাবে না।

সকলে উলঙ্গ অবস্থায় থাকিবে কিন্তু কেউ কারো দিকে তাকাবে না, সকলে নিজের চিন্তা করবে ও ইয়া নাফসি বলে আর্থনাথ করবে।

অতঃপর মহান রাব্বুল আলামীন প্রত্যেকটি বান্দার হিসাব গ্রহণ করিবেন এবং সর্বপ্রথম হিসাব হিসেবে নাম আজকে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

৫.) মিজান: মিজান শব্দের অর্থ পরিমাপ করা, মিজান হচ্ছে আখিরাতের অংশ যেখানে বান্দার নেকি এবং মন্দ কাজের পরিমাপ করা হবে।

ভালো এবং মন্দ কাজের পরিমাণ অনুযায়ী বান্দার জান্নাত এবং জাহান্নাম বরাদ্দ হবে এবং সে অনুযায়ী শান্তি ও শাস্তি উপভোগ করবে।

৬.) পুলসিরাত: কিয়ামতের মাঠে জান্নাতে যাওয়ার রাস্তায় এবং জাহান্নামের ঠিক উপরে একটি পুল বা ব্রিজ রয়েছে এই পুলটিকে বলা হয় পুলসিরাত। বান্দা তার কৃতকর্ম এবং নেকির ভার অনুযায়ী এক একজন এক এক রকম গতি সম্পন্ন হবে এবং সেই গতি দ্বারা পুলটি পার হবে।

এই পুলটি হবে চুলের চেয়েও সরু এবং হীরার চেয়েও ধার ও জাহান্নামিরা পুলটির উপর পা দেওয়া মাত্র জাহান্নামে পড়ে যাবে।

৭.) শাফায়াত:

আখিরাতের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে মুহূর্ত রয়েছে সে মুহূর্তটি হচ্ছে এই শাফায়াতের মুহূর্তটি। কেননা শাফায়াত করার মাধ্যমে অধিকাংশ জাহান্নামী পুনরায় জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে এবং জান্নাতের অশেষ নেয়ামত ভক্ষণ করতে পারবে। 

৮.) জান্নাত: চিরশান্তির স্থান হচ্ছে জান্নাত, জান্নাত শব্দের অর্থ হচ্ছে বাগান এবং এই বাগানে রয়েছে শুধু শান্তি আর শান্তি।

জান্নাতে প্রবেশকারী বান্দাগণ জান্নাতের নাজ নেয়ামত দেখে অবাক হয়ে থাকবে এবং তা উপভোগ করতে থাকবে।

প্রত্যেকটি জান্নাতিদের জন্য কয়েক হাজারেরও বেশি খাদেম নিযুক্ত করা হবে এবং প্রত্যেকটি জান্নাত থেকে হুর প্রদান করা হবে।

৯.) জাহান্নাম: জাহান্নাম হচ্ছে চিরশাস্তি ভোগ করার স্থান এবং এখানে মন্দ কাজ কারী ব্যক্তিগণ শুধুমাত্র আজব আর আজব ভোগ করবে।

কয়েক প্রকার কঠিন বেদনাদায়ক শাস্তি প্রদান করা হবে প্রত্যেকটি জাহান্নামী ভাইদেরকে এবং তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য অনেক বেশি লাঞ্ছিত হবে।

জাহান্নাম সহ তাদেরকে প্রশ্ন করবে কেন তোরা এলি এই জাহান্নামে, তোদেরকে কি কেউ বলেনি যে আমি কত বেশি ভয়ংকর।

এটি হলো আখিরাত কাকে বলে এই বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ জ্ঞান এবং তথ্য নিয়ে তৈরি করা পোস্ট।

আখিরাত বলতে যেহেতু মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বোঝানো হয় সুতরাং ইহার মাধ্যমে আপনাদের ভালো মন্দের হিসাব নেওয়া হবে।

অনন্তকালের জীবন হিসেবে পরকাল বা আখিরাতকে আখ্যায়িত করা হয়, যার শুরু তো হবে কবরের জীবন থেকে কিন্তু শেষ নেই।

যেহেতু এই জীবনের কোন শেষ নেই সুতরাং এই জীবন অনন্তকালের হবে এবং মৃত্যু নামক শব্দটি উঠে যাবে জীবন থেকে।

আরও পড়ুন: কুফর শব্দের অর্থ কি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top